Main Menu

পাবনায় মদ পানে ৩ ছাত্রের মৃত্যু;ঘটনা ধামাচাপা দিতে আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই দাফন

আবদুল জব্বার,পাবনা প্রতিনিধি :পাবনায় বিষাক্ত মদ পানে ৩ কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় পাবনা পুলিশ প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পাবনা থানা পুলিশ। নিহতরা হলেন, পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের শিক্ষার্থী ও একই বর্ষের ছাত্র ৩বন্ধু। নিহতদের ছদ্ম নাম চন্দ্র, সাগর ও শেখ। তাদের বাড়ি সদর উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে শনিবার সকালে একজনকে পাবনা বালিয়াহালট গোরস্থান, একজনকে জালালপুর গোরস্থানে সমাহিত ও একজনকে পাবনা শশ্মানঘাটে অন্তোষ্টিক্রিয়া করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দুপুরে। শুক্রবার দিবাগত রাতেই ৩জনের মৃত্যু হয়। পাবনা সদর হাসপাতাল সুত্র ও নিহতদের বন্ধুদের তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, গত শুক্রবার যে কোন সময় নিহতরা কয়েকজন বন্ধু ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলা মদ ক্রয় করে তা পান করে। পরবর্তিতে তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২জনের মৃত্যু হয়। আরেকজন নাটোরের বনপাড়ায় মারা যায়। মদপানে মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ আটকে দেয়। পরে বিশেষ রফায় ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ পাবনায় নিয়ে আসা হয় ও ময়না তদন্ত ছাড়ায় নিহতদের দাফন করা হয়। মদ খাওয়ার বিষয়টি প্রথমে গোপন করা হলেও রোগীদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পরবর্তিতে কর্তব্যরত ডাক্তারদের স্বজনরা বিষয়টি অবগত করে। হাসপাতালের রেজিষ্টারে প্রথমে ৩জনকে পেটের ব্যাথার রোগী হিসেবে ভর্তি করা হয়। পরে রেজিষ্টারে এলকোহলের রোগী দেখানো হয়। এদিকে বিষাক্ত মদ পানে ৩জন নিহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুললেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এটা প্রচারনা ছিল না। ঘটনার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ইনচার্য) ওবাইদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করতাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, কার কাছ থেকে মদ কিনেছে এটা তো আমরা জানিনা। জানলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। নিহতদের স্বজন ও বন্ধুদের মাধ্যমে আরো জানা যায়, নিহতরা গত শুক্রবারে দুপুরের পর পরই পাবনা শহরের দিলালপুর চাকি বাড়ি থেকে তারা মদ কিনে তা পান করে। মদ পান করার পর পরই তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। ঘটনা যাতে জানাজানি না হয় সেজন্য মদ পানকারীরা নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। এদিকে মদ পানকারীদের ঘন ঘন বমি ও পেটের যন্ত্রনা হতে থাকলে তাদের স্বজনরা পেটের সমস্যা দেখিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এরমধ্যে একজন তার পরিবারের কাছে মদ পানের বিষয়টি অবগত করে পরে চিকিৎসককে তা জানানো হয়। ৩কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের আত্বার মাগফেরাত কামনা করে আল্লাহর কাছে জান্নাতবাসী কামনা করেন। কেউ লিখেন বন্ধু তোর অসময়ে চলে যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারছি না। ওপারে তোরা ভাল থাকিস। তবে ৩ বন্ধুকে হারিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন জন মানুষ মারা গেল অথচ পুলিশ প্রশাসন কোন ব্যবস্থাই গ্রহন করলো না। অভিযোগ না দিলে কি তাদের কিছুই করার নেই। অন্তত তারা বিষাক্ত মদ বিক্রেতার বিরুদ্ধে তো বব্যস্থা নিতে পারতেন। ৩জনের মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ্য করা যায়নি। এ ব্যাপারে সুশিল সমাজের এক প্রতিনিধি বলেন, মৃত্যুর কারন পরিবার থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তাই এটি আলোচনায় আসেনি। পরিবারের লোকজন এটা গোপন করে অপরাধ করেছে। পাবনার সিনিয়র সাংবাদিক লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপন করলেও প্রশাসন বিষাক্ত মদ বিক্রেতাকে সনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে আগামীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে পাবনাবাসী রক্ষা পেত। পাবনার সুশিল সমাজের দাবী বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিষাক্ত মদ বিক্রেতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন। সেই সাথে শহরের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মদের বাড়িটি উচ্ছেদ করার দাবিও জানান। আবাসিক এলাকায় চাকি বাড়ি অবস্থিত হওয়ায় ও লাইসেন্স ছাড়া মদ বিক্রি করায় উঠতি বয়সের ছেলেরা প্রকাশ্যে মদ কিনে তা পান করে মাতলামি করায় এলাকাবাসীদের মাঝে মধ্যেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে এ বাড়ি থেকে স্কুল কলেজের উঠতি বয়সি ছেলেরা মদ কিনে তা পান করে প্রকাশ্যে মাতলামি করে থাকে। যা মাঝে মাঝে থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ ছাড়া মদ বিক্রির বাড়ির ৫০ গজের মধ্যে সেখানে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়ত মদ বিক্রি হওয়ায় মাঝে মধ্যেই অনাকাংখিত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থাণীয়রা বাড়িটি অন্য যায়গায় স্থানান্তর করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। আরো জানা যায়, মদপানকারীরা সংখ্যায় আরো বেশি ছিল। একটি অসমর্থিত সুত্র জানায় মদ পানে ওই দিন মোট ৪জন মারা গেছে। আরো কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।