Main Menu

ট্রেনের ছাদে ঢাকা ফিরছে ভাঙ্গুড়ার সহস্রাধিক মানুষ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
ঈদের ছুটি শেষে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ট্রেন ও বাস যোগে ঢাকার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। গত শনিবার থেকে এসব যাত্রীরা ঢাকা ফিরতে শুরু করলেও সোমবার রেল ও বাস স্টেশনে প্রচ- ভিড় দেখা যায়। এবছর এ উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বাসগুলোতে নির্ধারিত আসনের বাইরে যাত্রী পরিবহন করছেনা। তাই ট্রেনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে যাত্রীদের। এদিকে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় প্রতিদিন সহস্রাধিক যাত্রী ট্রেনে দাড়িয়ে ও ছাদে উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ফিরছে। আর এর সাথে প্রতিটি ট্রেনের ৩-৪ ঘন্টা করে বিলম্ব তো রয়েছেই।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনে ঢাকাগামী ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন বিরতি দেয়। সব ট্রেন মিলিয়ে আসন বরাদ্দ ৭২টি। এরমধ্যে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আসন মাত্র ৯টি এবং শোভন চেয়ার ৬৫টি। এছাড়া ঈদের কারণে বিশেষ একটি ট্রেনে ২০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। এই সাতটি ট্রেনের বরাদ্দকৃত আসনের টিকিট ছাড় হওয়ার প্রথম দিনে লাইনে দাড়ানো অর্ধেক যাত্রীর চাহিদাও পূরণ হয়না। ফলে ঈদ উপলক্ষে এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে আসন বিহীন ১২শ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা ঢাকা যাত্রার দিনে স্ট্যান্ড টিকিট কিনে ট্রেনের কামরায় ওঠার চেষ্ঠা করেন। কিন্তু নারী সহ বেশিরভাগ যাত্রী ঠেলাঠেলি করে কামরায় ওঠতে ব্যর্থ হয়। এতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে মোট ২২টি আসন বরাদ্দ। কিন্তু স্টেশনে ট্রেনের জন্য অন্তত পাঁচ শতাধিক যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ৩ ঘন্টা বিলম্বে সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে সকলে ট্রেনে ওঠতে তাড়াহুড়া করে। কিন্তু অর্ধেক লোকজন কামরায় ওঠতে সক্ষম হয়। পরে নারী সহ অন্তত তিন শতাধিক যাত্রী দুই কামরার সংযোগস্থল দিয়ে ঝুলে ঝুলে ট্রেনের ছাদে ওঠতে থাকে। এঅবস্থায় ট্রেনটি স্টেশনে দুই মিনিটের পরিবর্তে ১০/১২ মিনিট বিরতি দিতে বাধ্য হয়। এরপরও অনেক যাত্রী ট্রেনে না উঠতে পেরে ফিরে যায়।

ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হওয়া উপজেলার নুননগর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, তিনি ঢাকায় টেম্পু চালান। ঈদের ছুটিতে পরিবার সহ বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে পরিবারের সকলে ট্রেনে উঠতে পারেননি। আগামীকাল আবারও ট্রেনে উঠার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

যাত্রীদের অভিযোগ, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি কামরা আগের স্টেশনগুলো থেকেই জনাকীর্ণ হয়ে আসে। সেখানে ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা থাকেনা। তাই বাধ্য হয়ে আসন বিহীন বেশিরভাগ যাত্রীকে ছাদে চড়তে হয়। একই অবস্থা লালমনিরহাট এক্সপ্রেসেরও। অপরদিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি, পদ্মা ও ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে ভিড় কিছুটা কম থাকায় ভাঙ্গুড়া ও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার যাত্রীরা এ ট্রেন তিনটিকে বেঁছে নেয়। তাই এখানেও আসন বিহীন অর্ধেক যাত্রী কামরায় উঠতে পারলেও অন্যদেরকে ছাদে চড়তে হয়। এ অবস্থায় এই স্টেশনের সব ট্রেনের আসন সংখ্যা না বাড়ালে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় যাত্রীরা।

টেক্সটাইল মিলে কর্মরত ঢাকাগামী যাত্রী শরীফুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গুড়া স্টেশন থেকে টিকিট না পেয়ে রাজশাহী স্টেশন থেকে রাজশাহী টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে। তাই ভাঙ্গুড়াতে আসন বাড়িয়ে এ ভোগান্তি থেকে সবাইকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, ভাঙ্গুড়া থেকে ঢাকা যাত্রার প্রধান যানবাহন হচ্ছে ট্রেন। তাই ঈদের আগে ও পরের এক সপ্তাহ প্রতিদিন সহ¯্রাধিক মানুষ ট্রেনযোগে ঢাকা যাতায়াত করে। কিন্তু আসন সীমিত হওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রীদের চাপের বিবেচনায় এই স্টেশনে আসন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

ভাঙ্গুড়া বড়াল ব্রিজ স্টেশনের বুকিং ইনচার্জ শফিউল ইসলাম বলেন, সারা বছর প্রতিদিন ৭২ আসনের বিপরীতে ৩শ টিকিট বিক্রি হয়। আর ঈদের কারণে তা হাজার ছাড়িয়ে যায়। জনগণের ভোগান্তি দেখে আমাদেরও কষ্ট হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আসন না বাড়ালে আমাদের কিছুই করার নাই।



Comments are Closed