Main Menu

পুঠিয়ার বাঁনেশ্বর আম হাটে ওজনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
বাহারি সুস্বাদু আমের রাজধানী রাজশাহীর পুঠিয়া উজেলার বৃহত্তর বাঁনেশ্বর হাট-বাজারে আম ওজনে কারচুপি,ফড়িয়া ও দালালদের দৌরাতœ্য বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যাবসায়ীরা। পুজি হারাতে বসেছেন অনেক তৃণমুল ব্যাবসায়ীরা। ওজনে কারচুপি, ফড়িয়া ও দালালদের দৌরাতেœ্যর কারনে চামড়া, গুড়, বেগুন ও গরুর হাটের মত আমের হাটও অন্য উপজেলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এখানকার অভিজ্ঞমহলেরা। এছাড়াও প্রতিবছর ওজনের এই বিষয়গুলো বেশি লক্ষ্য করা যায় আম ক্রয়করা আড়ৎ গুলোতে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল শনিবার (১৫জুন) সকালে রাজশাহীর বৃহত্তর আমের বাজার বানেশ্বর হাটে বেশ কয়েকটি আমের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, শলার আম(ওজন করার জন্য) দেখিয়ে বিক্রেতার প্রতি ঝুড়ি থেকে বড় মাপের ৪-৫টা করে আম ব্যধতামূলক ভাবে নেওয়া হচ্ছে। ঝুড়ি ওজন ২কেজির স্থলে ৫-৬কেজি করে আম নেওয়া হচ্ছে। প্রতি ওজনে(কাটা প্রতি) ১কেজি বাদ দেওয়া হয়। ঝুড়িতে ৫-১০টি ছোট (ক্যাট) আম পাওয়া গেলে প্রতি ঝুড়ি থেকে ৫-১০ কেজি বাদ দেওয়া হয় অথবা অর্ধেক দাম দেওয়া হয়। এছাড়া অনেক আম নষ্ট হিসেবে ধরেও বিনামূল্যে নিয়ে নেন তারা। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বি.এস.টি.আই-এর নির্ধারিত বাটকারা ব্যবহার না করে নিজেদের ইচ্ছামত তৈরি বাটকারা ও চটের বস্তার ভিতর ইট-পাথর দিয়ে আম ওজন দেওয়া। তবে বাটকারা-ওজন তদরকি করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ বিভাগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা আসেন না আবার আসলেও দুই-একটা তদারকি করে চলে যায় বলে জানালেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। আম বাগানিরা অভিযোগ করে জানান, অনেক সময় ফড়িয়ারা আম মেপে নিয়ে টাকা দিবো, দিচ্ছি,পরে ও দেওয়া হবে বলে জানায়। সেই টাকা তুলতেও তাদেরকে অনেক হয়রানি শিকার হতে হয়। রাজধনীর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আম ক্রয়করতে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, বানেশ্বর বাজারের আমের আড়ত গুলোতে কোন নীতিমালা ছাড়াই অতিরিক্ত হারে আড়ত খরচ ও খাজনা আদায় করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ আড়তে ওজনে কারচুপি, ফড়িয়া ও দালালদের দৌরাতœ্য বাড়ায় বিপাকে পড়েন বাগানীরা। পুজি হারাতে বসেন অনেক তৃণমুল বাগান ব্যাবসায়ীরা। এদিকে,ওজনে কারচুপি,ফড়িয়া ও দালালদের দৌরাতেœ্যর কারনে চলে গেছে নাটোরÑবেলপুকুরে চামড়ার হাট, নাটোরে গুড় হাট, বিড়ালদহ- শিবপুরহাট বেগুন,পেয়ারা-কলার হাট ও শিবপুরহাটে গরুর হাট। এসব হাটের মত আমের হাটও অন্য উপজেলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞমহল। অপরদিকে, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৫ মে গুটি আম, গোপালভোগ ২০ মে, রানীপছন্দ ২৫ মে, খেরসাপাত (হিমসাগর) ২৮ মে, লখনা ২৬ মে, ৬ জুন ল্যাংড়া, আমরুপালি ও ফজলি ১৬ জুন, আশ্বিনা ১৭ জুলাই পর্যন্ত গাছ থেকে পেড়ে রফতানি শুরু করতে পাবেন আমচাষীরা। তবে আম বাজারে গুটি আম পাইকারি হিসেবে প্রতি মণ সাড়ে ৮০০ থেকে সাড়ে ১২০০ টাকা, খেরসাপাত (হিমসাগর) ১৮৫০ থেকে ২৪০০ টাকা, গোপালভোগ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা, ল্যাংড়া ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা, লোখনা সাড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচেছ।