Main Menu

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া

চলতি বিশ্বকাপের ২০ তম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৩৩৪ রানের জবাবে খেলতে নেমে শেষপর্যন্ত ২৪৭ রানে অলআউট হয় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দল শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে অজিরা। পাঁচ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট তাদের ঝুলিতে। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কা।

শনিবার (১৫ জুন) ইংল্যান্ডের ওভালে টস জিতে প্রথমে অজিদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের দূর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং সদ্য নিষেধাজ্ঞ্ কাঁটিয়ে দলে ফেরা স্টিভেন স্মিথের অর্ধ শতকের সুবাদে রানের পাহাড় গড়ে অজিরা।

ব্যাটিংয়ে নেমে গত ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা ওয়ার্নার আজ যেন আবারও সেই ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ফিরে যান। ৪৮ বলে করেন ২৬ রান, বাউন্ডারি ২টি। শেষ পর্যন্ত ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে বোল্ড হয়ে থামে তার ইনিংস। ভাঙে ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর ৫৩ বলে ৭ বাউন্ডারিতে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনে নামা উসমান খাজা তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। ১০ রান করে ধনাঞ্জয়ার দ্বিতীয় শিকার হন।

এরপর দারুণ এক জুটি গড়ে ফেলেন বর্তমান আর সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও স্টিভেন স্মিথ। ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নিতে অজি ক্যাপ্টেন ফিঞ্চ খেলেন ৯৭ বল; হাঁকিয়েছেন ৮টি বাউন্ডারি এবং ৪টি ওভার বাউন্ডারি। শেষ পর্যন্ত ১৩২ বলে ১৫ চার ৫ ছক্কায় ১৫৩ রানে ইসুরু উদানার শিকার হন তিনি। তিন অংকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্মিথও। তাবে তার ৫৯ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস থামে মালিঙ্গার দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে।

উইকেটে তখন ব্যাট হাতে ভয়ংকর হয়ে উঠেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। শন মার্শকে (৩) ফিরিয়ে দেন ইসুরু উদানা। এই উদানার কল্যাণেই পরপর রান-আউটের শিকারা হন অ্যালেক্স কেরি (৪) এবং প্যাট কামিন্স (০)। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইউকেটে ৩৩৪ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া। ২৫ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৪৬* রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল। বল হাতে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ইসুরু উদানা এবং ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১৫.৩ ওভারে ১১৫ রান করেন করুনারাত্নে ও কুশল পেরেরা। ইনিংসের ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে স্টার্কের দারুণ এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৫২ রানে সাজঘরে ফেরেন কুশল। মাত্র ৩৬ বলে এ রান করেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেট থিরিমান্নে ও করুনারাত্নে যোগ করেন ৩৮ রান। থিরিমান্নে ১৬ রান করে ফিরে গেলেও নিজের সেঞ্চুরির দিকে এগুতে থাকেন লঙ্কান অধিনায়ক। কিন্তু ৩৩তম ওভারের প্রথম বলে কেন রিচার্ডসনের বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের হাতে ধরা পড়ে যান সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে।

দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ৯ চারের মারে ১০৮ রান করেন করুনারাত্নে। তার বিদায়ের পরই মূলত স্তিমিত হতে থাকে লঙ্কানদের জয়ের আশা। কারণ কুশল মেন্ডিস (৩৭ বলে ৩০), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ (১১ বলে ৯), মিলিন্দা সিরিওয়ার্দানা (৪ বলে ৩), থিসারা পেরেরার (৩ বলে ৭) মধ্যে কেউই পারেননি উইকেটে থিতু হতে।

অবশ্য তাদের উইকেটে টিকতে দেননি মিচেল স্টার্ক। এখনো পর্যন্ত চলতি আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি স্টার্ক একাই নেন ৪টি উইকেট। সঙ্গে রিচার্ডসন ৩ ও প্যাট কামিনস ২ উইকেট নিলে ৪৫.৫ ওভারে ২৪৭ রানেই থেমে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। ৮৭ রানের বড় জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।