Main Menu

আজ ৬ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমজাদ হোসেন, এমএনএ এর মৃত্যুবাষিকী

আমজাদ হোসেন স্নাতক পাশ করেন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। কলকাতায় পড়ার সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির একান্ত্ম স্নেহভাজন হওয়ায় তিনি সোহরাওয়ার্দী পাকিস্ত্মানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে (যুক্তফ্রন্ট সরকার) তার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে সঙ্গে দায়িত্ব তার পালন করেন। পূর্ব পাকিস্ত্মান আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও পাবনা আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৬২ ও ১৯৭০ সনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে পাবনা সদরে এম.এন.এ নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সনের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে আমজাদ হোসেন তার বলিষ্ট দ্বারা পাবনার আপামর জনতাকে সংঘবদ্ধ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই পাবনায় গঠন করা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমজাদ হোসেন এম.এন.এ । সদস্য থাকেন শহীদ অ্যাড. আমিন উদ্দিন, এমপিএ, ন্যাপ নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল হক, গোলাম আলী কাদেরী, আবদুর রব বগা মিয়া, এমপিএ এবং আবদুস সাত্তার লালু। পরবর্তীকালে এ কমিটিতে যুক্ত হন পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক নূরুল কাদের খান এবং পুলিশ সুপার আবদুল গাফফার। এই সংগ্রাম পরিষদই ছিল পাবনার মুক্তিযুদ্ধের হাইকমান্ড। তাঁরই উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে সামরিক রসদ সংগ্রহের উদ্যোগে বিশেষ দূত প্রেরণ করা হয়। ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল, ইকবাল হোসেন প্রমুখও এবং অন্যান্য সমমনাদের সঙ্গে মিলেমিশে এ সকল সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে থাকেন।

তার নেতৃত্বে ২৯ মার্চ ১০ দিনের জন্য পাবনা জেলা প্রথম শত্রু মুক্ত হয়। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত হানাদার মুক্ত থাকে পাবনা জেলা।

দেশপ্রেমিক এই জননেতা আমজাদ হোসেন, এমএনএ ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল বুক ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট জানিত কারনে এক অবাঙ্গালী চিকিৎসকের অধীনে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত্ম হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তবে আওয়ামী লীগের উপস্থিত অনেক নেতা কর্মী অভিযোগ করেন অবাঙ্গালী চিকিৎসকের কারনেই তিনি মারা যান। উপস্থিত অনেকেই একে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মানতে রাজী হননি।

৬ এপ্রিল মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমজাদ হোসেন পাবনা জেলা কমান্ডের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর জেলা কমান্ডের দায়িত্ব পান রফিকুল ইসলাম বকুল (এম.পি)।