Main Menu

পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো ভারত

বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে পরাজয়ের ঘেরাটোপ ভাঙতে পারলো না পাকিস্তান। ওল্ড ট্রাফোর্ডের উত্তেজনা ম্যাচে ষ্টি আইনে ৮৯ রানের জয়ে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার সংখ্যাটা সাতে নিয়ে গেছে কোহলির দল!

শুরুতে ব্যাট করে রোহিতের শতক ও কোহলির ফিফটিতে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান তোলে ভারত। ৩৩৭ রানের লক্ষ্যে ৩৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। এরপর বৈরি আবহাওয়ায় ম্যাচ বন্ধ হলে বৃষ্টি বিরতির পর সরফরাজদের জন্য পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২, মানে বাকি ৩০ বলে ১৩৬ রান কেবল! সেখানে তারা তুলছে পেরেছে ২১২ রান।

বড় রানের চাপ মাথায় মাঠে নেমেই বৃষ্টির তাড়া খেয়ে আরও দিশেহারা পাকিস্তানের দুই ওপেনার। নামতে না নামতেই বৃষ্টি। অবশ্য খেলা শুরু করা গেল কিছুক্ষণ বাদেই। পাঁচ ওভার একসঙ্গে ব্যাটও করলেন। তারপর সঙ্গী ফখর জামানকে রেখে শঙ্করের বলে এলবিডব্লিউয়ে কাঁটা পড়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমাম-উল-হক (৭)। সেই অবস্থা থেকে ১০৪ রানের জুটিতে কোহলিদের উল্টো চাপে ফেলে দেন ফখর ও বাবর আজম। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই দুজনে এগোচ্ছিলেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।
বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই অসাধারণ এক ডেলিভারিতে পাকিস্তানিদের বিশ্বকাপে ভারত বধের স্বপ্ন তছনছ করে দেন কুলদ্বীপ যাদব। একজন লেগস্পিনারের স্বপ্নের ডেলিভারি গুগলিতে বাবর আজমের (৪৮) ব্যাট-পায়ের ফাঁক দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন এ চায়নাম্যান স্পিনার। এক ওভার পর যাদবের আরেক আঘাতে সাজঘরে ফেরেন ফখর জামান। ৭৫ বলে ৬২ করে দারুণভাবে যখন এগোচ্ছিলেন, তখনই এক লোপ্পা বলে শর্ট ফাইনে যুজবেন্দ্র চাহালের হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ফখর-বাবর আউট হতেই পাকিস্তানিদের আরও চেপে ধরে ভারত। তাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া শুরু সরফরাজদের ইনিংসও। দলকে বিপদে রেখে একে একে ফেরেন মোহাম্মদ হাফিজ (৯), অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ (১২)। রানের খাতা খোলার সুযোগই পাননি সবচেয়ে অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক।

১৬৫ রানে ৬ উইকেট হারানো পাকিস্তান আর মাত্র ১ রান যোগ করতেই নামে বৃষ্টি। ২২ রানে অপরাজিত ইমাদ ওয়াসিম যখন শাদাব খানকে (১) হারের ব্যবধান কমানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত, ম্যাচ নিজের দখলে নিয়ে আপন মনে খেলতে থাকে প্রকৃতি।

এর আগে রোহিত ‘দ্য হিটম্যান’ শর্মার সেঞ্চুরি, আর কোহলির দ্রুততম ১১ হাজার রানের দিনে আগে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়ে ভারত। নিজের ২৪তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে রোহিত থামেন ১৪০ করে। ১১৩ বলে তার ইনিংসটি সাজানো ১৩ চার আর ৪ ছক্কা দিয়ে। আর কোহলি করেছেন ৭৭। করেছেন দ্রুততম ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ড।

শচীন টেন্ডুলকারের চেয়ে ৫৪ ইনিংস কম খেলে দ্রুততম ১১ হাজার রানের মালিক এখন কোহলি। ২৭৬ ইনিংসে ১১ হাজারি ক্লাবে নাম লিখিয়েছিলেন শচীন। ১১ হাজার করতে অজি সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং খেলেছিলেন ২৮৬ ইনিংস। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির লেগেছিল ২৮৮ ইনিংস।