Main Menu

ফটো অ্যালবাম থেকে এখন ছবি ঠাঁই নিয়েছে ডিজিটাল অ্যালবামে। কিন্তু অবহেলা, অযত্ন আর ভাইরাসের আক্রমণে নিমিষেই হারিয়ে যেতে পারে বিয়ের ছবি। কিভাবে আগলে রাখবেন তা জানিয়েছেন ওয়েডিং ডায়েরির পরিচালক প্রীত রেজা।

আগলে রাখুন বিয়ের ছবি

ছোটবেলা থেকেই ছবি তুলতে পছন্দ করতেন সামিহা কেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই বাতিক বহুগুণ বেড়ে যায়। ঘুরতে গিয়ে, খেতে গিয়ে এমনকি বন্ধুদের আড্ডায়ও নিজের স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করতেন। ফটোজেনিক চেহারা বলে বন্ধুরাও তাকে মিস ইউনিভার্সিটি বলে খেপাত। বিষয়টাতে ভীষণ মজাও পেতেন সামিহা। সাধারণ সব ঘটনায় যে এত ছবি তোলে, বিয়ের মতো ঘটনায় তাতে একটু বাড়াবাড়ি যুক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। হয়েছিলও তাই, দেশসেরা ওয়েডিং ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সামিহার বিয়ের ছবি তোলার। পানচিনি, বউভাত থেকে শুরু করে বিবাহ-উত্তর অনুষ্ঠানের বাইরেও আলাদা করে বিয়ের ছবির ফটোশ্যুট করেছিলেন তাঁরা। বিয়ের পর ছবিগুলো হাতে পেয়ে কিছুক্ষণ দমবন্ধ করে বসেছিলেন কেয়া। এত সুন্দর ছবি। কোনটা রেখে কোনটা বাছাই করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। শেষে সবই পেইনড্রাইভে নিয়ে যত্ন করে রেখে দেন। ল্যাপটপেও কপি করে রেখেছিলেন। মাঝেমধ্যেই ছবিগুলো বের করে দেখতেন। একদিন ল্যাপটপ চালু করে ড্রাইভে গিয়ে দেখেন ছবিগুলো হাওয়া। পেইনড্রাইভটাও কী এক কাজে কোথাও নিয়ে গিয়ে খুইয়ে এসেছেন তার বর। শেষ পন্থা হিসেবে সেই ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে এসে ধরণা দেন দুজন। ভাগ্য ভালো। পেয়েও যান বিয়ের ছবি। কারণ প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর পর্যন্ত ক্লায়েন্টের বিয়ের ছবি সংরক্ষণ করে। ওপরের ঘটনাটি জানালেন বিয়ের ছবি তোলেন এমনই একটি ফটোগ্রাফি স্টুডিওর প্রধান আলোকচিত্রী। তিনি বলেন, বিয়ের ছবি কোনো কারণে হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতেই পারে। সময় চলে যায়, রেখে যায় স্মৃতি। জীবনের মধ্যে আনন্দ-বেদনার উত্স হিসেবে কাজ করে তা। বিয়ের অনুষ্ঠানের স্মৃতি, দামি খাবার, জমকালো পোশাক, কাছে-দূরের আত্মীয়—সবই ঝাপসা হয়ে যাবে বছর কয়েক পরেই। শুধু ছবিগুলোই অমূল্য স্মৃতি হয়ে চোখের সামনে জ্বলজ্বল করবে। বিয়ের হাজারো মুহূর্ত দুর্লভ সুখস্মৃতি হয়ে রবে। বিয়ের স্মৃতির চেয়ে মধুর কোনো কিছু আর হয় না। সে জন্য বিয়ের ছবির জন্য একটু বাড়তি যত্ন চাই। উপযুক্ত ব্যাকআপ রেখে দিলে বিয়ের ছবি হারানোর ভয় থাকে না। বিয়ের ছবি যত্নে রাখতে বেশ কিছু পরামর্শও দিলেন তিনি।

♦    মাল্টিপল কোনো সোর্স যেমন ডিভিডি  করে রাখুন।

♦    আর্কাইভাল কিছু ডিভিডি পাওয়া যায় বাজারে। এগুলোর দাম যদিও একটু বেশি, তবে ভালো ব্যাকআপ পাওয়া যায়। আর্কাইভাল ডিভিডির স্টোরিং পদ্ধতি বেশ উন্নতমানের।

♦    ফাইল হারিয়ে গেলে ডাটা রিকভারির মাধ্যমে অনেক সময় তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আবার অনেক ক্ষেত্রে সেটা নাও হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় ছবিগুলো প্রিন্ট করে একটি হার্ড কপি রেখে দেওয়া।

♦    এখন অনলাইনে বিভিন্নভাবে ছবি কাস্টোমাইজড করে রাখা যায়। এভাবে রেখে দিলে যখন-তখন যেখানে-সেখানে থেকে ইচ্ছামতো ছবিগুলো ব্যবহার করা যায়। চাইলে অনলাইনেও ছবি রেখে দিতে পারেন।

♦    ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের দেওয়া পরামর্শ মেনে ছবি সংরক্ষণ করুন। এতেও ছবি হারানোর শঙ্কা কম থাকবে।

♦    ছবি সংরক্ষণের জন্য ভালোমানের পেইনড্রাইভ, সিডি, ডিভিডি ব্যবহার করুন।

♦    ছবি প্রিন্ট করে রাখতে চাইলে ভালোমানের পেপারে প্রিন্ট করে নিন। এমনও উন্নতমানের পেপার আছে, যেটাতে ছবি প্রিন্ট করালে ১০০ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।