প্রধান মেনু

ভাঙ্গুড়ায় পশু জবাইয়ের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে ১৭ জন আহত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঈদের দিনে কোরবানির পশু জবাইয়ের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে একটি গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মু-ুমালা গ্রামের ওসমান ও আবু বকর গ্রুপের মধ্যে গত সোম ও মঙ্গলবার দফায় দফায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২জন ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যরা স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে এ ঘটনায় ওই গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মু-ুমালা গ্রামে জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ওসমান ও আবু বকর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের কারণে দুই পক্ষই আলাদাভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছে। এক পর্যায়ে ঈদের দিন মসজিদের সামনের উন্মুক্ত জায়গায় কোরবানীর পশু জবাইয়ের স্থান দখল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। সেসময় গ্রামের প্রধানবর্গের হস্তক্ষেপে জায়গাটির দুই পাশে আলাদাভাবে পশু জবাই করে দুই পক্ষ। পরে ঐদিন বিকালে পশু জবাই ও দরিদ্রদের মাঝে গোস্ত বিতরণ শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন আবারও লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষের উপর হামলা চালায়। এ সময় দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১২জন আহত হয়। সংঘর্ষ শেষে আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হলেও পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আসাদুর রহমান জানান, মু-ুমালা গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি মসজিদ কমিটি ও কুরবানির স্থান নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সাজেদুর রহমান বলেন, মসজিদ কমিটির দুটি পক্ষ ঈদের কুরবানির জায়গা দখল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫/১৬ জন আহত হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানায় ওই কর্মকর্তা।