Main Menu

সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

দুই মাস আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে আয়েশা সিদ্দিকার বিয়ে হয়। তবে নয়ন নামে একজন আয়েশাকে নিজের সাবেক স্ত্রী বলে দাবি করতে থাকে। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের বিরোধের সূত্রপাত।

কলেজে নিয়ে গিয়েছিলেন তার স্বামী । কলেজ থেকে ফেরার পথে কলেজের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাতের ওপর হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত। আয়েশা তাদের বাধা দিয়েও আটকাতে পারেননি। গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রিফাত বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচের মাইঠা-লবনগোলা এলাকার দুলাল শরীফের ছেলে। মাত্র দুই মাস আগে আয়েশার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

ওই এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিফাত ও আয়েশা কলেজ থেকে বের হওয়ার সময়ই চার-পাঁচ জন তাদের ঘিরে ফেলে। এসময় তারা রিফাতকে চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। আয়েশা তাদের বাধা দিলেও কাজ হয়নি। তারা রিফাতকে উপুর্যপুরি আঘাত করে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালও হয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে রিফাতকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে রিফাতের মৃত্যু হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠান। বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীরা জানান, দুর্বৃত্তদের মধ্যে একজনের নাম নয়ন। সে নিজেকে আয়েশার সাবেক স্বামী বলে দাবি করে। পরে রিফাতের সঙ্গে আয়েশার বিয়ে হলে সে আয়েশাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। ফেসবুকে আয়েশার ছবি নিয়ে আপত্তিকর অনেক পোস্টও সে করেছে। এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। তার জের ধরেই নয়নের ওপর দলবল নিয়ে সে হামলা করেছে বলে জানিয়েছেন রিফাতের পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার সকালে রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী ও রাব্বি আকনকে নিয়ে রিফাতের ওপর নয়ন হামলে পড়ে বলে অভিযোগ রিফাতের বাবা দুলাল শরীফের।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির হোসেন মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এরই মধ্যে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। নয়নসহ বাকিদের বাসায় বাসায় অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে কাউকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। রিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা গেছে। শিগগিরই অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে পুলিশ ।