Main Menu

ভাঙ্গুড়ায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা-ধামাচাপার চেষ্টা

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় তের বছর বয়সী এক সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জানা গেছে, গত (১০ জুন) ছাত্রীর মা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করে পল্লী-চিকিৎসকের পরামর্শে প্রেগনেন্সি টেস্ট স্ট্রিক দিয়ে পরীক্ষা করে জান যায় সে চার মাসের অন্তঃসত্বা। বিষয়টি তার বাবা মা জানতে চাইলে বলে, গত চার মাস পূর্বে মাঠে ছাগল চড়াতে গেলে প্রতিবেশী লম্পট আব্দুল খালেক (২২) একা পেয়ে পাশের ঘাসের জমিতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি চিৎকার দিলে গামছা দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে এবং কাউকে বললে আমাকে ও বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায় জীবনের ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলিনি। প্রায় এক মাস পরে খালেক আবারো ধর্ষণ করে পুনরায় একই হুমকি দেয়। লম্পট আব্দুল খালেক ইউনিয়নের ভেড়ামারা গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে ও হাজী জামাল উদ্দিন কলেজের ছাত্র। ছাত্রীর বাবা ধর্ষকের বাবাকে বিষয়টি জানালে প্রভাবশালী লম্পটের বাবা চাঁদ আলী ছয় হাজার টাকা দিয়ে মেয়েটির বাবাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করে। পরে ছাত্রীর বাবা তার মেয়েকে জোর করে পাবনা সদরের কোন এক ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করান।এদিকে জীবন বাচাতে ওই ছাত্রী এবং তার বাবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিরুপায় হয়ে মেয়েটির বাবা পার-ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ হেদায়েতুল হক ও গ্রামের অন্যান্য প্রধানবর্গের কাছে এ ঘটনার বিচার চান। কিন্তু কেউই তার অভিযোগে কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে নির্যাতিতার পরিবার থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবার কিশোরী ও তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়। এতে প্রাণের ভয়ে কিশোরীকে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে তার পরিবার। পার-ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক বলেন, ছাত্রীর বাবা মেয়ের গভ্রের সন্তান নষ্ট করার পরে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছে। তবে বিষয়টা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় তাদের আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো: মাসুদ রানা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।