Main Menu

চার বছর চুটিয়ে প্রেম করার পরই চীনের মডেল ফ্যান বিংবিং ও দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা লি চেনের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

ফ্যান ও লি চেন বিচ্ছেদের কথা জানালেন

চীনের মডেল ফ্যান বিংবিং ও দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা লি চেনের সম্পর্ক ভেঙেছে। গত বৃহস্পতিবার দুই দেশের দুই তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবোতে এ কথা জানান।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়, ৩৭ বছর বয়সী ফ্যান বিংবিং চীনের সর্বোচ্চ আয় করা তারকা। তিনি ওয়েইবোতে এক পোস্টে জানান, ৪০ বছরের তারকা লি চেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেছে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ান অভিনেতা গান হাই-কিও এবং কোরিয়ান নাটকের জনপ্রিয় তারকা সং জোং কি’র দুই বছরের দাম্পত্য জীবনের সম্পর্কের ইতি টানার খবর গণমাধ্যমে বের হয়। এরপরই ফ্যান বিংবিং ও লি চেনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেল।

ফ্যান বিংবিং এবং লি চেনের এই বিচ্ছেদের খবরে ওয়েইবুতে ‘হট সার্চের’ তালিকায় চলে এসেছে। এই গোল্ডেন কাপলের প্রেম ভেঙে যাওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে। কারণ চার বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটায় অনেক ভক্ত-সমর্থক মেনে নিতে পারছেন না। একজনের মন্তব্য, অবিশ্বাস্য, আমার ভয় হয় এটা না আবার চীনের বিনোদন শিল্পে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অপর একজন বলছেন, চার বছরের সম্পর্ক রাতারাতি শেষ গেল। এটা কি সত্যি, না কি বাস্তবতা বা লুকানো কোনো গল্প আছে, আমার সন্দেহ হচ্ছে। ফ্যানের ভক্তদের বড় একটি অংশের মন্তব্য, বোন, সুখী হও, তুমি সব সময় আমাদের কাছেই থাকবে।

ফ্যান ও চেনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ওয়েইবো

ফ্যান ও চেনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ওয়েইবো

সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে ফ্যান বিংবিং বলেন, ‘আমাদের জীবনে বিভিন্ন বিচিত্র বিদায়ের অভিজ্ঞতা হয়। আমাদের (লি চেন) প্রেম শাশ্বত শক্তি হয়ে গেছে। অতীতে তোমার সমস্ত আত্মত্যাগ, সমর্থন এবং ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। আমরা আর এখন আমাদের নই। কিন্তু আমরা সব সময় আমরাই থাকব।’

এর ঘণ্টা দুয়েক পরই লি বলেন, ‘হয়তো আমাদের ভালোবাসার ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমাদের মধ্যেকার অনুভূতির কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা আর এখন আমাদের নই। কিন্তু আমরা সব সময় আমরাই থাকব।’

২০১৫ সালে সম্পর্কের শুরুতে ফ্যান ও লি চেন নিজেদের সম্পর্কের পরিচয় দিতে গিয়ে আমরা ও আমাদের শব্দগুলো ব্যবহার করতেন।

ফ্যান বিংবিং বলেন, ‘একজীবনে অনেক সময় বিদায় বলতে হয়। তুমি (লি চেন) আমাকে যা দিয়েছ সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’

চীনের জনপ্রিয় ও বিখ্যাত অভিনেত্রীদের মধ্যে ফ্যান অন্যতম একজন। ছবি: টুইটার

চীনের জনপ্রিয় ও বিখ্যাত অভিনেত্রীদের মধ্যে ফ্যান অন্যতম একজন। ছবি: টুইটার

মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসেবে ফ্যান শোবিজ জগতে অনেক পরিচিত নাম। ‘আয়রন ম্যান’ ও ‘এক্স ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তারকাকে ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন ‘জনপ্রিয় অভিনেত্রী’র তকমা দেন। টুইটার ও চীনা সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতে তার ফলোয়ার ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি। লালগালিচা, মুভি প্রিমিয়ার ও ফ্যাশন শোতে সরব উপস্থিতির জন্য তাকে ‘ফ্যাশন আইকন’ ও ‘মহারানি’ বলা হয়ে থাকে।

২০১৬ সালে বিশ্বের সেরা পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর তালিকায় পেছনে ফেলেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে। ওই তালিকায় তাঁর স্থান ছিল পঞ্চম। ২০১৩ সাল থেকে ফোর্বসের সেরা ১০০ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত চীনা শিল্পীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ২০০৬ সাল থেকেই এই তালিকার সেরা ১০-এ আছে ফ্যানের নাম।

গত বছর খবর ছড়িয়ে পড়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন জনপ্রিয় চীনা অভিনেত্রী ফ্যান বিংবিং। কোথাও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাঁর। কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। পরে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে ফ্যান বিংবিং একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে চীনা সরকার এতে তুষ্ট হয়নি। কর ফাঁকির অপরাধে ৮৮ কোটি ৩০ লাখ ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে তাঁকে।

চীনের মডেল ফ্যান বিংবিং ও দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা লি চেন গত বৃহস্পতিবার নিজেদের বিচ্ছেদের কথা জানান। ছবি: সংগৃহীত

চীনের মডেল ফ্যান বিংবিং ও দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা লি চেন গত বৃহস্পতিবার নিজেদের বিচ্ছেদের কথা জানান। ছবি: সংগৃহী

তচীনে কর ফাঁকি দেওয়ার একটি অবৈধ প্রক্রিয়া রয়েছে, যাকে বলে ‘ইন-ইয়াং কনট্রাক্ট’। এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো কাজ শুরু করার আগে দুটি চুক্তিপত্রে সই করেন। একটি চুক্তিপত্রে থাকে আসল পারিশ্রমিকের পরিমাণ, অন্যটিতে কম পারিশ্রমিক দেখানো হয়। কম পারিশ্রমিকসংবলিত চুক্তিপত্র জমা দেওয়া হয় চীনের কর বিভাগে। কয়েক মাস আগে চীনের গণমাধ্যমে ফ্যান বিংবিং স্বাক্ষরিত এমনই একটি ইন-ইয়াং কনট্রাক্ট ফাঁস হয়। এতে একই কাজের জন্য ফ্যানের সই করা দুটি চুক্তিপত্রের ছবি দেখা যায়। এরপর থেকেই ফ্যান বিংবিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে চীনের আয়কর বিভাগ। এ কারণে ফ্যান বিংবিং গত জুন মাস থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। এমনকি কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে গত কয়েক মাস পাওয়া যায়নি।

৩৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী শুধু চীনেই নন, হলিউডেও বেশ জনপ্রিয়। অভিনয় করেছেন এক্স-মেন ও আয়রনম্যান-এর মতো ছবিতে। ফোর্বস সাময়িকীর হিসাবে এই অভিনেত্রী বেশ কয়েক বছর বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেত্রীর তালিকায়ও উঠে এসেছিলেন। গত বুধবার এই অভিনেত্রী গত কয়েক মাসের নীরবতা কাটিয়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইদানীং আমি প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি যা করেছি তাতে ভীষণ লজ্জিত। আমি আজ এখানে সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।’