Main Menu

ভারতের জয়ের প্রার্থনায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান!

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রেষারেষি অনেক পুরোনো। রাজনৈতিক ডামাডোলে মেতে থাকে দুই জাতি। বাদ যায় না খেলার মাঠও। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ক্রিকেট মাঠে। মুম্বাই হামলার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক ‍সিরিজ বন্ধ আছে দুই দলের। সেই উত্তেজনা বেড়ে যায় পুলওয়ামা হামলার পরে। ভারত পাকিস্তানের রেষারেষি ক্রিকেট ভক্তরা টেনে এনেছেন এবারের বিশ্বকাপেও।

ইদানিংকালে বাংলাদেশের সাথে ভারতের রাজনৈতিক কোন বিবাদ না থাকলেও ক্রিকেটে ভীষণরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে দুই দলের। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পর থেকে এই রেষ চূড়ান্ত মাত্রা পেয়েছে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এত রেষারেষির পরেও ভারতের সাপোর্টার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই একদিন পর। যে ম্যাচে জিততেই হবে টিম টাইগার্সকে। তবে নিজেদের পরের দু-ম্যাচে জিতে যাতে সেরা চারে যাওয়া যায়, সেজন্য ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে স্বাগতিকদের হেরে যাওয়ার বিকল্প নেই একেবারেই। তাইতো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের জন্য চিৎকার করে গলা ফাটাবে বাংলাদেশ। সঙ্গে পাকিস্তানও।

রোববার (৩০ জুন) এজবাস্টনের মাঠেই ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচে ভারত জিতলে সেমির রোডম্যাপে লাভ বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের। তাই সমর্থনে নেই কোনো রাখঢাক! তবে শুধু সমর্থক নয়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ যেমন মনেপ্রাণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় চাইছেন, তেমনি দু’দেশের বর্তমান এবং সাবেক ক্রিকেটাররাও দেখতে চাইছেন ভারতের দাপট।

‘আসলে ব্যাপারটা স্বার্থপরের মতো হয়ে যায়। যে দলের জয়ে আমাদের লাভ হয়, তাকেই সমর্থন করব।’ কথাটি বাংলাদেশ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। লাভ বলতে এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না ইংল্যান্ডের হারই চাইবে বাংলাদেশ দল ও সমর্থকরা।

মাশরাফি অবশ্য নিজের সাপোর্ট লুকাননি। বলেন, ‘ভারত জিতলে তো আমাদের লাভ বেশি। ওরা ইংল্যান্ডকে হারালে এবং আমরা ভারতকে হারালে আমাদের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়।’

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শচীন টেন্ডুলকার-বীরেন্দর শেবাগদের উইকেট ছিটকে দেওয়ার জন্য মাঠে নামতেন ‘রাওয়ালপিণ্ডি এক্সপ্রেস’ শোয়েব আখতার। রোববারের ম্যাচের আগে শোয়েবও ইউটিউবে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এবার ভারতের সাহায্য খুব দরকার পাকিস্তানের। ভারত যদি ইংল্যান্ডকে হারায়, তাহলে ইংল্যান্ড ছিটকে যাবে টুর্নামেন্ট থেকে। পাকিস্তান তা হলে বাকি দুই ম্যাচ জিতে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছবে। আমার মনে হয়, পাকিস্তান দারুণ ভাবে ফিরে এসেছে। এবার জেগে ওঠো ভারত। তোমাদের সাহায্য করতেই হবে। ইংল্যান্ডকে হারাও তোমরা। বাকি দুটো ম্যাচ আমরা জিতবই। তখন সেমিফাইনালে তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

এক সপ্তাহ আগেও অনেকেই ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত ধরে রেখেছিল। কিন্তু টানা দুটি হারে দৃশ্যপট বদলে যায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গেলে বিশ্বকাপ থেকে এখন তাদের ছিটকে পড়ার শঙ্কা। শক্তিশালী কোহলির দলের বিপক্ষে মরগানের দল তাই মরিয়াই থাকবে জিততে।

সাত ম্যাচের তিনটিতে হার ও চারটিতে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে ইংল্যান্ড। শনিবার (২৯ জুন) আফগানিস্তানকে হারিয়ে ৮ ম্যাচ থেকে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ভারত ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচের একটিতে যদি ইংল্যান্ড হেরে যায় এবং বাংলাদেশের শেষ দুটো ম্যাচ জয়ের মুখ দেখে, তবেই শেষ চারে জায়গা নিশ্চত হবে বাংলাদেশের। একই রকমের হিসেব পাকিস্তানেরও।

আবার ইংল্যান্ড যদি ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায়, তবে কোনো সমীকরণ ছাড়াই শেষ চারে যাবে স্বাগতিকরা। তাই সেসব সূত্র থেকেই ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ যেন মিলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের অনেকেই স্বাভাবিক ভাবেই সমর্থন করে ভারতকে। তবে চলতি বিশ্বকাপ চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান সমর্থকদেরও এমন এক পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যে, ‘টিম ইন্ডিয়া’কে সমর্থন করা ছাড়া এখন আর দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই তাদের সামনে।