Main Menu

পাবনার বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমানের জন্মদিন পালিত

পাবনার বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমানের জন্মদিন গতকাল রোববার পালিত হয়। এ উপলক্ষে ইয়াং জার্নালিষ্ট ফোরাম রোববার রাতে পাবনা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে কেক কাটাসহ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পাবনা চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি, সহসভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাস, চেম্বারের পরিচালক জাহিদ হোসেন জামিম, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান, সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ, দৈনিক সিনসা সম্পাদক ও ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ, পাবনা রির্পোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, পাবনা টেলিভিশন ও অনলাইন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, একাত্ত্বর টেলিভিশনের পাবনা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, দৈনিক দেশ রুপান্তর ও এটিএন নিউজের পাবনা প্রতিনিধি রিজভী জয়, ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি মির্জা পার্থ হাসান, ইয়াং জার্নালিষ্ট ফোরাম রনি ইমরান, সাংবাদিক সোহেল রানা, পাবনা চেম্বারের সচিব আব্দুর রাজ্জাক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দেশের মুক্ত সাংবাদিকতা বিকাশে বৃহত্তর পাবনার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান অনন্য অবদান রেখে আসছেন। সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে তার পরিচিতি এখন দেশজুড়ে এবং মফস্বল সাংবাদিকতায় তার অবদান অনস্বীকার্য। এই মেধাবী কৃতি সাংবাদিক ফজলুর রহমান বৃহত্তর পাবনা জেলার বেলকুচি উপজেলার বেড়াখারুয়া গ্রামে ১৯৬৯ সালের ৩০ জুন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বেলকুচি উপজেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও পাবনা জেলা বোর্ডের সাবেক মেম্বর নূরুল হুদা মিয়া। মাতার নাম মরহুমা হামিদা খাতুন।
ফজলুর রহমান ছাত্রাবস্থা থেকেই সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় স্থানীয় দৈনিক দাবানলের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি নেন।
এরপর ১৯৮৫ সালে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক নব অভিযানের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক দেশ এবং ১৯৮৭ সাল থেকে ইউএনবি’তে দীর্ঘ ১০ বছর পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৭ সালে ইউএনবি ছেড়ে অ্যাসোেিয়টস প্রেস অব বাংলাদেশ (এপিবি), ১৯৯৯ সালের ২১ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর এর পাবনা প্রতিনিধি, ২০০৩ সালে তিনি পাবনা থেকে দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার পদে পদোন্নতি পান। এ ছাড়া ২০০৩ সালে এনটিভি’র জন্মলগ্ন থেকে তিনি এনটিভি’র পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৫ সালের মার্চ মাসে দৈনিক সমকাল-এ যোগ দেন এবং বর্তমানে পাবনা অফিসের ব্যুরো প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি ২০০১ সালে পরের মেয়াদে ২০০৩-২০০৫ সালে, এবং ২০০৫-২০০৭ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে পাবনা প্রেসক্লাবের ইতিহাসে তিন বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করেন। এছাড়া তিনি জার্মান রেডিও ডয়েচে ভেলে এবং সংবাদ সংস্থা রয়টার্স‘র ষ্ট্রিংগার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছ্ড়াা জনমলগ্ন থেকে বিডি নিউজ ২৪ ডট কমের পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৪ সালে তিনি পাবনা থেকে সর্বপ্রথম পিপল ইন্টারেষ্টেড প্রেস ‘পিপ’ নামক একটি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। পিপ দেশের বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক প্রায় ৬‘শ সংবাদপত্রে সংবাদ সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া তিনি পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্টি’ (পিসিসিআই) এর নির্বাচিত পরিচালক এবং দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর জেনারেল বডি মেম্বর। বর্তমানে তিনি কনজুমার অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাবনা জেলা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি পাবনার আজিজিয়া নুরানী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, নতুন কুঁিড় প্রি ক্যাডেট স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, পাবনা টাউন গার্লস হাই স্কুলের স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, পাবনা মোটর মালিক গ্রুপ, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফজলুর রহমান’রা ৪ ভাই ৩ বোন। তারা হচ্ছেন- মরহুম হারুন-অর-রশিদ, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মরহুম এস এম সেলিম রেজা, বোনেরা হচ্ছেন- মোছাঃ কোহিনুর বেগম, মোছাঃ সাহিদা আখতার ও জয়নব খাতুন। বোনেরা এবং তাদের স্বামী সন্তানরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সু-প্রতিষ্ঠিত।
ফজলুর রহমানের সহধর্মিনী মাহবুবা রহমান কাজল একজন আদর্শবান সুগৃহিনী ও ইসলামিক টেলিভিশন এবং দৈনিক দেশবাংলা পত্রিকায় পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্প্রচার ও প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। ফজলুর রহমান ২ ছেলে সন্তানের জনক। বড় ছেলে এবিএম ফারিব রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফিনান্স বিভাগের প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত এবং ছোট ছেলে এবিএম ফাইয়াজ রহমান পাবনা স্কয়ার হাই স্কুল এন্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশুনা করছেন।