Main Menu

বাংলাদেশের বিদায়, সেমিফাইনালে ভারত

শেষ হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা ভারতীয়দের করা ৩১৪ রানের জবাবে ২৮৬ রানের বেশি করতে পারেনি টাইগাররা। ২৮ রানের ব্যবধানে হেরে পঞ্চম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। আর মাশরাফির দলকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করলো ভারত।

লক্ষ্যটা বড় হলেও অসম্ভব ছিল না। বিশেষ করে চলতি আসরেই আগের ৬ ম্যাচে যে দল ৩ বার পেরিয়েছে ৩০০ রানের কোটা, তাদের জন্য ৩১৫ রানের লক্ষ্যটা অন্তত ধরাছোয়ার মধ্যেই ছিল। কিন্তু পারেননি টাইগার ব্যাটসম্যানরা। এক সাকিব আল হাসান ব্যতীত আর কোনও স্বীকৃত ব্যাটসম্যান উইকেটে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। শেষদিকে একাই লড়াই করেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দুজনই ফিফটি করেন, তবে তা যথেষ্ঠ প্রমাণিত হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার (০২ জুলাই) বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়। সরাসরি সম্প্রচার করে গাজী টিভি, মাছরাঙা চ্যানেল ও বিটিভি।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রোহিত শর্মার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি ও লোকেশ রাহুলের ৭৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৩১৪ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। তবে ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা যেমন বিধ্বংসী হয়েছিল তাতে আরও বড় লক্ষ্যই হয়ত পেত বাংলাদেশ। কিন্তু বল হাতে দাপট দেখিয়ে কোহলিদের সেই লক্ষ্য দিতে দেননি মোস্তাফিজ-সাকিবরা।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ৫ উইকেট দখলের কীর্তি গড়েছেন ‘ফিজ’। শেষ ওভারে ৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। আর তাতেই ভারতের শেষটা আশানুরূপ হয়নি।

ভারতের দেয়া ৩১৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করে দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। উদ্বোধানী জুটিতে সৌম্যর সঙ্গে ৩৯ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন তামিম। তবে ১০ ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে ইনসাইডেজ বোল্ড হলে নিজের ইনিংস আর বড় করতে পারেননি তামিম। ৩১ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ২২ রান করেন এই বাঁহাতি।

দলীয় ৭৪ রানে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন আরেক ওপেনার সৌম্য। আউট হবার আগে তিনি করেন ৩৮ বলে ৩৩ রান।

দুই ওপেনারকে হারানোর পর সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহীমের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। তবে দলীয় ১২১ রানে ইউজবেন্দ্র চাহালের বলে মোহাম্মদ শামির সহজ ক্যাচ হলেন মুশফিক। তাতেই অপমৃত্যু হয় ২৩ বলে ২৪ রানের আশা জাগানিয়া ইনিংসের।

দলীয় ১৬২ রানে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ২৪ বলে ২২ রান করে দীনেশ কার্তিকের কাছে ক্যাচ দেন লিটন। আর ১৭৩ রানে জসপ্রিত বুমরাহর বলে বোল্ড হন মোসাদ্দেক। আউট হওয়ার আগে তিনি ৭ বলে ৩ রান করেন।

একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাকে সঙ্গ দেয়ার মতো অন্য প্রান্তে থাকছিলেন না কেউই। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের পর সাজঘরে ফিরে যান দুই তরুণ লিটন কুমার দাস এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও।

নিঃসঙ্গ যোদ্ধা বনে যাওয়া সাকিবও এগুতে পারেননি বেশিদূর। ইনিংসের ৩৪তম ওভারের পঞ্চম বলে হার্দিক পান্ডিয়ার করা স্লোয়ার ডেলিভারিটি বুঝতে পারেননি চলতি বিশ্বকাপে সপ্তম ম্যাচে ৬ষ্ঠ ফিফটি করা সাকিব। ধরে পড়েছেন শর্ট কভারে দাঁড়ানো দিনেশ কার্তিকের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৬ চারের মারে ৭৪ বলে ৬৬ রান করেছেন সাকিব।

সাকিব আল হাসানের বিদায়ের পরও সপ্তম উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৬৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। তবে ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বির বিদায় নিলে সেই আশাও শেষ হয়ে যায়। জসপ্রিত বুমরাহ’র বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৫টি চারে সমান ৩৬ রান করেন এই ডানহাতি। পরে ব্যক্তিগত আট রান করে ভুবেনশ্বর কুমারের বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে ক্যাচ তুলে দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

রুবেল হোসেনকে নিয়ে নবম উইকেটে শেষ চেষ্টাটা করেন সাইফ।

দুজনের জুটিতে ২১ বলে ২৯ রান পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের শেষ বলে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন রুবেল। তার এ ইনিংসে ছিলো দর্শনীয় এক স্ট্রেইট ড্রাইভে চারের মার।

সে ওভারের শেষ বলেই মোস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করে দুই ওভার বাকি থাকতেই ২৮৬ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করে সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ৩৮ বলে ৫১ রান করে।

ভারতের পক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট শিকার করেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া নিয়েছেন ৩টি উইকেট। এছাড়া ১টি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন বাকি তিন বোলার ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ শামি ও ইয়ুজভেন্দ্র চাহাল