Main Menu

জমির মাপ জেনে নিন

জমি-জমা যে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।জমি ক্রয়-বিক্রয় বা পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত জমির ওয়ারিশদের সঙ্গে ভাগ বাটোয়ারা, আমীন বা প্রতিপক্ষের চাতুরী ইত্যাদি থেকে নিজের জমির পরিমাণটা সঠিক রাখতে বা পেতে প্রত্যেকেরই জমির মাপটা জানা প্রয়োজন।এ ক্ষেত্রে নিজেই জমি মেপে পরিমাণ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া য়ায়।
জমি মাপার মূল সূত্র হলো দৈর্ঘ X প্রস্থ = ক্ষেত্রফল। তবে জমির আকারভেদে এই ক্ষেত্রফল বের করার কিছু ভিন্ন বা সহজীকরণ নিয়ম রয়েছে। যেমন:
বর্গক্ষেত্রের বেলায়
ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু
কর্ণ = ১ বাহু X ১.৪১৪
পরীসিমা= ১ বাহু X ৪
বর্গক্ষেত্রের বাহুগুলির দৈর্ঘ্য ১২০ লিংক করে হলে ক্ষেত্রফল হবে;
ক্ষেত্রফল= বাহু X বাহু = ১২০ X ১২০= ১৪৪০০ বর্গলিংক
আমরা জানি ১ শতাংশ = ১০০০ বর্গ লিংক
তাহলে জমির পরিমাণ,
১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ
১ বর্গ লিংক = ১০০০ ভাগের ১ ভাগ
১৪৪০০ বর্গ লিংকে হবে; ১৪৪০০ বর্গ লিংকে ১০০০ দিয়ে ভাগ দিলে ১৪.৪০ শতাংশ হবে।

জমি মাপার বিভিন্ন একক:
১ শতাংশ = ১০০০ বর্গলিংক
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গ ফুট
১ শতাংশ = ১৯৩.৬০ বর্গহাত
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
১ শতাংশ = ৪০.৪৭ বর্গ মিটার
মাপ সাধারণত তিন প্রকার: রৈখিক বা আর এফ টি, বর্গ বা স্কয়ার এফ টি, ঘনফুট বা সিএফটি
জমি মাপার যন্ত্রপাতি ও তার ব্যাবহার:

গান্টার শিকল:
এডমন্ড গান্টার এই শিকলের আবিষ্কারক। এটা ৬৬ ফুট লম্বা এবং ১০০ টি সমান ভাগে বিভক্ত। প্রতি ভাগের দৈর্ঘ্য ০.৬৬ ফুট বা ৭.৯২ ইঞ্চি। প্রতি ভাগকে ১ লিংক বলে।
৮০ শিকল = ১ মাইল
১০ শিকল = ১ ফার্লং

ডায়াগনার স্কেল :
এটি হলো একটি চার কোনা বিশিষ্ট তামা ও ব্রোঞ্জের তৈরি স্কেল। এটির চার পাশে ১০ টি ঘর বা কক্ষ থাকে। প্রতিটি ঘরের মান ১০০ লিংক। ১৬”=১ মাইল স্কেলে এটি তৈরি করা হয়। এবং গান্টার চেইনর সাথে মিল আছে বলে একে গান্টার স্কেল বলা হয়।
আইভার অফসেট:
এটি একটি প্লাষ্টিকের তৈরি স্কেল। এই স্কেলের সাথে গান্টার স্কেলের মিল আছে। এর দৈর্ঘ্য
২’’ এবং প্রস্ত .৫” (ইঞ্চি) এই স্কেলের সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব সহজে মাপা যায়।

ডিভাইডার বা কাটা কম্পাস:
এটি একটি জ্যামিতিক কম্পাস। এটির সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব নিয়ে ডাইগোনাল স্কেলে মাপ
নেয়া যায় এবং দুরত্ব গুনে গুনে সংখ্যা বুঝা যায়।

ভূমি পরিমাপের পদ্ধতি:
ভূমি জরিপকালে যে সব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তা হল:
শিকল জরিপ
কম্পাস জরিপ
প্লেনটেবিল জরিপ
থিয়োডোলাইট জরিপ

শিকল জরিপ:
ভূমি জরিপের জন্য শিকল জরিপ সবচেয়ে সহজ। য়ে জায়গায় জরিপ করতে হবে তা কতকগুলো ত্রিভুজে ভাগ করে নিতে হয় এবং ত্রিভুজের বাহুগুলোর দৈর্ঘ্য শিকল দিয়ে মাপা হয়। জ্যামিতিক ক্ষেত্রগুলির মধ্যে ত্রিভুজ অংকন পদ্ধতি সহজ।এ ক্ষেত্রে পুরো জায়গাটিকে সারি সারি ত্রিভুজে ভাগ করে নিতে হয়। ত্রিভুজের কোণগুলি ৬০ ডিগ্রির করা বা ১২০ ডিগ্রির বেশী না হয় তা দেখতে হবে। মাঠের মাঝামাঝি দিয়ে একটি বা দুটি মেরুদন্ড রেখা টেনে নেয়া যায়। এই মেরুদন্ড রেখার সাথে প্রধান প্রধান ত্রিভুজগুলো আবদ্ধ থাকে এবং বড় বড় ত্রিভুজগুলোকে আরো ছোট ছোট ত্রিভুজে বিভক্ত করতে হবে। এভাবেই শিকল জরিপ সম্পন্ন হয়।

কম্পাস জরিপ:
এতে দুই ধরনের কম্পাস ব্যবহার করা হয়। এ কম্পাস দুটি হল প্রিজমেটিক কম্পাস এবং সার্ভেয়ারস কম্পাস। বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, রাস্তা, নদী এবং ধারাবাহিক রেখার নকশা প্রণয়ন কাজে প্রিজমেটিক কম্পাস ব্যাবহার করা হয়। আর বড় নদী বা সমুদ্র এলাকায় যখন বিশাল চর জেগে উঠে তখন তা নরম থাকে। তার ওপর দিয়ে চলাফের করা যায় না। তখন কম্পাস জরিপের মাধ্যমে তার অবস্থান, সীমানা এবং আয়তন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

খতিয়ান কী এবং কেন?
প্রত্যেকটি এলাকায় বা প্রত্যেক মৌজায় জমি পরিমাপের জন্য মানচিত্র আছে এবং তার একটি দাগ নং আছে।এটাকে খতিয়ান বলা হয়। ভূমি জরিপের মাধ্যমে খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়। এগুলি ক্রমিক সংখ্যা দ্বারা সাজানো হয়। এই সংখ্যাকে খতিয়ান নম্বর বলে। খতিয়ান বলতে ক্রমিক নং বা খতিয়ান নম্বর, জমির মালিকের নাম, পিতার বা স্বামীর নাম মালিকের অংশ বা মালিকের মোট জমির পরিমাণ, দাগ নং বা যে দাগে জমিটি অবস্থিত উক্ত দাগে মোট জমির শ্রেণী, রাজস্ব প্রদেয় জেলার নাম বা যে জেলায় জমিটি অবস্থিত, থানা বা উপজেলার নাম জে এল নাম্বার (জুরিসডিকশন লিস্ট) তৌজি নাম্বারসহ ভূমির মালকানার বিবরণকেই বলি। তাই সাবেক খতিয়ান এবং বর্তমান খতিয়ান পর্যালোচনা করলেই আমরা ভূমি মালিকানার ধারাবাহিকতা দেখতে পারব।
অনেক প্রয়োজনে খতিয়ান সংশোধন করতে হয়। জমি বিক্রয়ের মাধ্যমে হস্থান্তর বা উত্তরাধীকারের ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তরিত হলে তার জন্য নাম খারিজ করা হলে খতিয়ান সংশোধন হয়। সরকার কর্তৃক জমি ক্রয়কৃত হলে খতিয়ান সংশোধন হয়। জমি পরিত্যাগ বা বিলুপ্তি বা অর্জনের কারণে খাজনা মউকুফ হলে খতিয়ান সংশোধন হয়। একটি খতিয়ান তৈরী হলে যদি তাতে ভূল থাকে তাহলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ স্থানীয় দেয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়। দেয়ানী আদালত যদি মনে করে খতিয়ানে ভূল আছে তাহলে প্রয়োজনীয় শুনানী শেষে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বিশ্লেষন করে সংশোধনের আদেশ দেন।

নামজারি বা মিউটেশন:
‘নামজারি বা মিউটেশন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা জমি ক্রয়ের পর বা মালিকানা পরিবর্তন এর পর ক্রেতাকে করতে হয়। বিক্রয়, দান, বিনিময় ইত্যাদির মাধ্যমে খতিয়ানভুক্ত জমি হস্তান্তর করা হলে উক্ত খতিয়ান হতে হস্তান্তরিত ভূমির পরিমাণ ওই খতিয়ান হতে বাদ দিয়ে হস্তান্তর গ্রহীতার বা যে ব্যক্তি জমি ক্রয় করেছেন বা ক্রেতার নামে খতিয়ান খুলে তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হস্তান্তরিত ভূমির প্রকৃত প্রজা কে এবং যার নিকট হতে খাজনা আদায় করা হবে তার জন্য স্বত্বলিপি বা খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

সূত্র: ইন্টারনেট