অধিকাংশ অন্তঃসত্ত্বা চুলকানির শিকার

চিকিৎসা-বিজ্ঞানে গর্ভাবস্থার সময়কালকে মোটামুটি তিন ভাবে ভাগ করে নেয়া হয়। প্রথম তিন মাস ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার, পরের তিন মাস সেকেন্ড ট্রাইমেস্টার এবং শেষ তিন মাস থার্ড ট্রাইমেস্টার নামে পরিচিত।

কোনো নারী যখন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় থাকেন, তখন তাঁর শরীরে দু’ধরনের পরিবর্তন হয়–‌‌ শারীরবৃত্তীয় ও বিভিন্ন রোগঘটিত। এই সময় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্তনের চামড়ার মধ্যেও কিছু পরিবর্তন লক্ষণীয়-কালো ছোপ
অধিকাংশ (৬০%‌–৮০%) ভারতীয় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের পায়ে কালো ছোপ হয়, কপালে ও গালে যার খুব বেশি দেখা মেলে। এই ছোপ নাভির নিচের স্তরেও থাকে যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাছাড়া, এই সমস্যা সেই সব নারীদের মধ্যেও দেখা যায় যাঁরা অন্তঃসত্ত্বা নন, অথচ বাজারচলতি কোনো গর্ভনিরোধক ওষুধ খেয়ে থাকেন। কালো ছোপ কেন হয় তার কারণ আজও অজানা। মনে করা হয়, ইস্ট্রোজেন হরমোন পরিবর্তনই এর কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু লাগানোর ওষুধ ব্যবহার করে এই রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব।

স্ট্রায়া গ্র্যাভিডেরাম
অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন ভাবী মায়ের পেটের চামড়ায় যখন ধীরে ধীরে টান পড়ে তখনই স্ট্রায়া গ্র্যাভিডেরাম দেখা দেয়। এটিকে নাভির নিচের অংশে ও স্তনে হতে দেখা যায়। এ রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রাম্ত স্থানে কিছু ওষুধ লাগিয়ে আরাম মেলে।

চুলকানি
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে সমস্যা খুব বেশি হয় তা চুলকানি। চিকিৎসা পরিভাষায় রোগটির নাম প্রুরাইটিস। ভারতীয় নারীদের ৮০%‌–‌‌৯০% এ রোগের শিকার। কিছু ক্ষেত্রে এ রোগ বিলিয়ারি সিরোসিস, ভাইরাল হেপাটাইটিস, হেপাটিক ফেলিওর ইত্যাদির কারণেও হয়। এ ছাড়া লিভারের কোনও সমস্যা থাকলেও এ-রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রক্তাল্পতায় ভোগা মহিলাদেরও এ-রোগ হতে পারে। বিশেষ ধরনের মলম লাগিয়ে চুলকানি থেকে সাময়িক উপকার মেলে, কিন্তু সম্পূর্ণ সারে না। সারে সন্তান প্রসবের পর।

প্রুরাইটাস গ্র্যাভিডেরাম
সেকেন্ড বা থার্ড ট্রাইমেস্টারে এ রোগের সূত্রপাত হয়। বেশিরভাগ নারীদের নাভির নিচে ও পায়ে এ-রোগ হয়। অনেক সময় হাতের তালুও ওই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। প্রুরাইটাস গ্র্যাভিডেরাম থেকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। এই সময় লিভার ফাংশান টেস্টে কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। সিরাম অ্যালকালাইন ফসফেটের মাত্রা বেড়ে যায়, বিলিরুবিন মাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। এই রোগে লাগানোর ওষুধ প্রয়োগ করে আরাম মেলে। তা ছাড়া ইউ ভি থেরাপিও বেশ ফলপ্রদ।

পেমফিগয়েড জেসটেশনিস
রোগটি বিরল। ৬০ হাজার নারী পিছু ১ জন আক্রান্ত হন। এতে শরীরে ছোট ছোট প্যাপিউলস (আর্টিকেরিয়াল প্যাপিউলসে) অর্থাৎ ছোট ছোট জলফোস্কা দেখা যায়। সাধারণত নাভির তলদেশ, স্তন, থাই ইত্যাদি অংশ এ রোগে আক্রান্ত হয়। বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েডযুক্ত ওষুধ রোগের তীব্রতা কমায়। সেকেন্ড বা থার্ড ট্রাইমেস্টারে রোগের সূত্রপাত। প্রসবের আগে মাত্র ২৫% নারীদের এ-রোগ হয়, বাকিদের হয় প্রসবের পর। পরে পিরিয়ড শুরু হলে রোগটি পুনরায় হতে পারে। এ রোগ যে শুধু অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের হয় এমন নয়, যাঁরা গর্ভনিরোধক ওষুধ খান তাঁদেরও হতে পারে।

প্রুরাইটিক আর্টিকেরিয়াল প্যাপিউলস
প্রকোপ তুলনামূলক ভাবে কম। প্রতি ১৬০–‌‌২৪০ অন্তঃসত্ত্বা নারী পিছু ১ জন আক্রান্ত হন। এই সময় চুলকানি হয় যা মূলত তলপেট থেকে শুরু হয়ে পরে ধীর ধীরে গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে লিসনগুলি ত্বকের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে থাকে। আবার কিছু কিছু মহিলার ক্ষেত্রে জলফোস্কাও হয়। রোগ সাধারণত তাঁদেরই হয়, যাঁদের গর্ভে একের বেশি (দুটি বা তিনটি) সন্তান থাকে। সন্তান গর্ভে আসার ৩৬–‌‌৩৯ সপ্তাহের মধ্যে রোগটি হয়। বিভিন্ন টপিক্যাল স্টেরয়েড ফলপ্রদ। ওরাল হিস্টামিনও ভাল কাজ করে। খুব কম ক্ষেত্রে ওরাল স্টেরয়েড লাগে।

বেসনিয়ের’স প্রুরাইগো
এই রোগও বিরল। সাধারণত ৩০০ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মধ্যে ১ জনের হয়। রোগের সূত্রপাত সেকেন্ড ট্রাইমেস্টারের মাঝামাঝি সময় এবং চলতে থাকা থার্ড ট্রাইমেস্টার পর্যন্ত। আক্রান্ত স্থানে লাগানোর ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। ওরাল অ্যান্টি-হিস্টামিনেও ভাল ফল মেলে।

সূত্র: আজকাল

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author