তাড়াশের আমবাড়িয়া গণকবরটি পড়েছে অযত্ন-অবহেলায়

আশরাফুল ইসলাম রনি,তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গণকবরটি পড়েছে অযত্ন ও অবহেলায়। বছরে বিশেষ একটি দিনকে কেন্দ্র করে পরিস্কার ও পরিছন্ন করা হলেও আর বাকী দিনগুলোতে খবর রাখে না কেউ।
মহান স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের পরিবারগুলো কেউ নেয় না। শহীদ বীর যোদ্ধাদের গণকবরগুলো আজ অরক্ষিত? তাই গণকবরগুলো সংরক্ষণের দাবি মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মানুষের। গণকবরগুলো সংরক্ষণ না করায় তাদের স্মৃতি মুছে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে। যেসব বীর যোদ্ধা জীবন বাজি রেখে দেশ-মাতৃকার টানে দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর যেন কেউ নেই! সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাতে রয়েছে কয়েকটি গণকবর। এর মধ্যে আমবাড়িয়া গ্রামের কবরটি অন্যতম। ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর পাকবাহিনীরা রাজাকারদের সহায়তায় ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গ্রামের শহীদ ইয়ার মোহাম্মাদ, শহীদ মেছেরউদ্দিন, শহীদ সুলতান শেখ, শহীদ শফিজ শেখ, শহীদ দেছের আলী প্রামানিক, শহীদ ফয়েজউদ্দিন, শহীদ ওসমান গনি, শহীদ মজিবর রহমান, শহীদ কিসমত আলী, শহীদ জুব্বার ফকির, শহীদ আমিনুদ্দিন, শহীদ আ. রহমান, শহীদ মোক্তার হোসেন। গণকবরটিতে একাত্তরে শহীদ মোট ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ চিরশায়িত আছে। আহত দু’জন এ বছরে মারা গেছেন। তাদের কবর বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকা আছে। এভাবেই অরক্ষিত আছে ১৫ জন বীর সেনার গণকবর। আমবাড়িয়া গ্রামের শহীদ ইয়ার মোহাম্মদের বড় সন্তান ও দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান জানান, নভেম্বর মাস এলেই কিছু লোক ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যায়। পরে আর কেউ খোঁজ রাখে না। সরকারের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে গণকবরটি স্থানীয় এলাকাবাসী কোনোরকম ইট দিয়ে ঘিরে রেখেছে। এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি এবং গণকবরটিতে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী আরশেদুল ইসলাম জানান, গণকবরগুলো সংরক্ষণ না করলে একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদারবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের কালের সাক্ষী হয়ে থাকা এসব গণকবর। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ চারযুগ ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা সকল গণকবর সরকার সংরক্ষণ করবে এটাই মুক্তিযোদ্ধারদের প্রত্যাশা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author