শীতের আগেই ত্বকের যত্ন

ঢাকা : শীত তো চলেই এলো। এসময়ে আমাদের জীবন-যাপনে এবং খাবার খাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে। মৌসুম পরিবর্তনের ফলে দিনে প্রবল ঠান্ডা আবহাওয়ায় ও পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে আমাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। তবে ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে এসময়েও ত্বকের নিস্তেজ ও শুষ্কভাব দূর হবে এবং আমাদের ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যকর, উজ্জ্বল ও কোমল।

এসময় আমরা কীভাবে ত্বকের যত্ন নিতে পারি? শীতকে আমন্ত্রণ জানাই। শীতের আগেই তাই চলুন জেনে নিই কিভাবে সুন্দর ত্বক ধরে রাখা যাবে। শীতে শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে ফেলে এবং ত্বক প্রাণহীন ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই শীতকালে গোসলে সাবান কম ব্যবহার করুন। আর করলেও ময়েশ্চারাইজিং সাবান ব্যবহার করুন। গোসল এবং প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় ময়শ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

মুখের যত্ন
ভালো ময়েশ্চারাইজারযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাঁরা ক্রিমের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। শীত আসছে বলে ভাববেন না যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

ঠোঁটের যত্ন
ঠান্ডা বাতাসে ঠোঁট বারবার ফেটে যায়। কখনো এতটাই ফেটে যায় যে চামড়া উঠে আসে ও রক্ত বের হয়। কখনোই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়। এ সময় ঠোঁটের সমস্যা সমাধানে বা আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। দিনের সময় ব্যাগে বা পকেটে একটি লিপজেল সঙ্গে রাখেন। ঠোঁট ফেটে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে লাগাতে পারেন। দিনে তিন চারবার লাগানো যায়। রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে পরিষ্কার একটি কাপড় ভিজিয়ে ঠোঁটে হালকাভাবে দেন। তারপর অলিভ ওয়েল বা লিপজেল লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরের দিন দেখবেন আপনার ঠোঁট খুব মসৃণ হয়ে যাবে। প্রতি রাতে এভাবে করা উচিত।

হাত ও পায়ের যত্ন
শীতে অনেকের হাত ও পা  ফেটে যায়। এ সময় ভেসলিন ব্যবহার খুব ভালো। নিয়মিত ভ্যাসলিন ব্যবহার করলে হাত ও পা অনেকটা মসৃণ হয়ে আসবে। যাদের পুরোনো চর্মরোগ যেমন সোরিয়াসিস, একজিমা, ইকথায়সিস ইত্যাদি আছে, তাঁদের ত্বকের সমস্যা এই সময় বেড়ে যেতে পারে। তাই তাঁদের হতে হবে আরও সচেতন। প্রয়োজনে আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এ দিকে খাবারের বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সময় সহজ এবং মশলামুক্ত বা কিছু মশলাযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। নিয়মিত খেজুর, বাদাম, দুধ, শাক-সবজি, টাটকা ফল বেশি করে খান। দইও হজমের জন্য খুবই ভালো। সেজন্য দইও খেতে পারেন। হজম ভালো থাকলে ত্বকও ভালো থাকতে পারেন। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শরীরের বিপাক ও রক্তসংবহনের জন্য পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক বিপাক ও রক্তসংবহন থাকলে ত্বক ভালো থাকতে পারে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author