সংবাদপত্রে ভাঙ্গুড়া ও আমার গ্রামীণ সাংবাদিকতা

॥ মাহবুব-উল-আলম বাবলু ॥
১৯৮০ সালের কথা, তখন আমি এসএসসি পাস করেছি। সম্ভবত জুলাই মাসে পাবনা শহরে আমার চাচা মোশাররফ হোসেন (আইনজীবী) এর ‘নূরমহল’ বাসভবনে বেড়াতে গেলাম। সন্ধ্যায় চাচা আমাকে সঙ্গে নিয়ে পাবনা প্রেসক্লাবে গেলেন। তৎকালিন বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাবনা প্রতিনিধি মীর্জা শামসুল ইসলাম ও ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি আনোয়ারুল হকের সাথে চাচা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। পাশেই বসেই ছিলেন সরকারি বুলবুল কলেজের গণিতের অধ্যাপক (বর্তমান অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ) শিবজিত নাগ। তিনি পাবনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিবৃতির (তখন সাপ্তাহিক ছিল) সম্পাদক ছিলেন। চাচা শিবজিত স্যারকে বললেন, আমার এই ছেলেকে ভাঙ্গুড়ার সাংবাদিক বানিয়ে দাও। পরদিন বেনিয়াপট্রি বিবৃতি অফিসে গেলাম। পরিচয় হলো সূচী সৈয়দ ও শেলী আপার সাথে। কিছুক্ষণ পর শিবজিত নাগ এলেন। কুশলবার্তা জিজ্ঞেস করেই তিনি আমাকে ভাঙ্গুড়া সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিলেন। সূচী সৈয়দ সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করে সংবাদ লেখা বুঝিয়ে দিলেন। তখন থেকেই শুরু হলো আমার গ্রামীণ সাংবাদিকতা।
ভাঙ্গুড়া তখন ফরিদপুর থানার একটি ইউনিয়ন মাত্র। তখন বেশির ভাগ থানাতেই জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন না, ইউনিয়নে তো প্রশ্নই ওঠে না। তবে অধ্যাপক নুরুজ্জামান মুসাফির ও অধ্যাপক আবু জাফর মঈন সিদ্দিকী স্যার এর কবিতা ও গল্প কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ হতো। ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন হাই স্কুলের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ও মোজাফ্ফর হোসেন স্যার এলাকার কিছু সমস্যার কথা লিখে পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে পাঠাতেন। এর আগে মরহুম আজিজুল ইসলাম সাংবাদিকতা করলেও তিনি পাবনায় স্থায়ীভাবে বাস করেন। যতদুর জেনেছি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে সাংবাদিকতায় প্রথম হাতে খড়ি হয় আমার। ১৯৮১ সালে ভাঙ্গুড়ায় পুলিশ স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। ১৯৮২ সালে আমি উত্তর বঙ্গের একমাত্র সরকারি গেজেট ‘দৈনিক বার্তা’য় ভাঙ্গুড়া সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ পাই। ১৯৮৩ সালে ভাঙ্গুড়া থানা মানোন্নীত হয় ও পরে উপজেলায় রূপান্তর হলে একমাত্র আমারই উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কাজের সুযোগ হয়। এ সময়ে পাবনার তৎকালিন জেলা প্রশাসক সৈয়দুর রহমান,ভাঙ্গুড়ার প্রথম থানা নির্বাহী অফিসার তপন কুমার দে,প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এম.এম ফরহাদ নবগঠিত থানা ও উপজেলার প্রশাসনিক উন্নয়নে নানামুখি সংবাদ তৈরী ও পত্রিকায় প্রেরণের জন্য আমাকে উৎসাহিত করেন। মূলতঃ তখন থেকেই ভাঙ্গুড়া নিয়মিত ভাবে সংবাদপত্রে উপস্থাপিত হয়।
১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষনের জন্য পাবনা রশিদ হলে শ্রদ্ধেয় কামাল লোহানী সপ্তাহব্যাপী একটি সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করেন। এতে অংশ গ্রহনের সুযোগ পেয়ে একজন জাত সংবাদ কর্মীর খাতায় নাম লিখাতে পেরে ধন্য হলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবে অপর এক সাংবাদিক প্রশিক্ষনে এমিক বাংলাদেশের প্রতিনিধি এ.বি.এম মুসা,বিবিসি সংবাদদাতা আতাউস সামাদ,ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদদাতা গিয়াস কামাল চৌধুরী ও রয়টার ব্যুরো চীফ আতিকুল আলম এর সান্নিধ্য লাভ করি। সাংবাদিকতা যে কত মহান পেশা তাদের কাছে প্রথম জানতে পারি। এবিএম মুসা বললেন,সত্য প্রকাশের জন্য সাহসের সাথে বুদ্ধিমত্তা ও অনুধাবন ক্ষমতা অর্জন করতে হয়। আতিকুল ইসলাম বললেন,একবার মিথ্যা সংবাদ প্রচার হলে ভুক্তভোগীর ক্ষতি কোনদিন পূরণ করা যায়না। গিয়াস কামাল বললেন, ‘Ôpress club is the ocean। প্রত্যেক উপজেলায় প্রেসক্লাব গড়ে তোলো। এবিএম মুসা বলেছিলেন,প্রকৃত একজন সাংবাদিক কারো স্থায়ী বন্ধু হতে পারেনা। গনতন্ত্রের অনুপস্থিতি ঘটলে বরং ক্ষমতাসীন রাজনীতিকের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরো সংকটাপন্ন করে তোলে। কথাগুলোর অর্থ এখন বুঝতে পারি। কারণ সাংবাদিকতায় তারা সবাই অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
১৯৮৯ সালের মার্চের কোন এক তারিখে গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত দৈনিক সংবাদের উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি মোনাজাত উদ্দিন ভাঙ্গুড়ার বড়ালব্রিজ স্টেশন সংলগ্ন ডাকবাংলায় ওঠেন। ইউএনও খলিলুর রহমান এই সংবাদটি আমাকে পৌছান। বিকালেই আমি তার সাথে দেখা করলাম। ততক্ষণে তিনি আমার নাম পরিচয় জেনে নিয়েছেন। দরজার সামনে দাড়িয়ে সালাম দেয়ার আগেই তিনি বলে উঠলেন,এসো- তুমি নিশ্চয়ই বাবলু,ভাঙ্গুড়ার কৃতি সাংবাদিক। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বললাম,ভাই আমি শিক্ষানবিশ। তিনি বললেন,তোমার কথা সৈয়দুর রহমান সাহেব আমাকে বলেছেন। সৈয়দুর রহমান তখন পদোন্নতি পেয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন। ভাঙ্গুড়া থানার স্থান নির্বাচন,নিমাইচড়া ও খানমরিচ ইউনিয়ন ভাঙ্গুড়ার সাথে সংযুক্তকরণ ও থানা কমপে¬ক্সের ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের জন্য সৈয়দুর রহমানের পরামর্শ অনুযায়ী ‘দৈনিক বার্তায়’ কয়েকটি প্রতিবেদন গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করায় তিনি আমাকে পছন্দ করতেন। যদিও নিমাইচড়ার তৎকালিন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান রাজী না হওয়ায় নিমাইচড়া চাটমোহরের সাথে সংযুক্ত থেকে যায়। ভাঙ্গুড়ায় আসার আগের দিন বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে গেলে তিনি মোনাজাত উদ্দিনকে আমার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। মোনাজাত উদ্দিন সংবাদের নেপথ্যের সংবাদও লিখতেন। তখন গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে একটি সংবাদের জন্য ২/৩দিন পর্যন্ত কাজ করতে হতো। একটি সংবাদ নেপথ্যের সংবাদ অনুসন্ধানের জন্য বড়ালব্রিজ থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ১৬ কিলোমটার দুরত্বের গ্রাম মিসমিথুইর গেলেন,ফিরে এলেন পরের দিন। তার ইচ্ছানুযায়ী রাতে আমার বাড়ি হাঁসের ডিম রান্না দিয়ে তিনি ভাত খেলেন। পরদিন ছিল সবে বরাত,দুপুরেই তিনি ভাঙ্গুড়া ছাড়বেন জন্যে সকালে মাংশ রুটি দিয়ে নাস্তা খাওয়ালাম। এভাবে ৭/৮ ঘন্টা তার সংস্পর্শে থাকার সুবাদে সংবাদের গভীরে যাওয়া মন্ত্রের কিছুটা দীক্ষা পেয়েছিলাম। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার সংবাদদাতা মার্কটালী ভাঙ্গুড়ায় এসেছিলেন। তখন রেললাইন আর উঁচু কিছু এলাকা ছাড়া সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে ছিল। তিনি প্রথমেই ভাঙ্গুড়া খাদ্য গুদামে গিয়ে জানতে চাইলেন এখানে কত মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। তথ্য নেয়ার পর আবার প্রতিটি গুদাম খুলে স্টক দেখে নিলেন। কারণ খাদ্যাভাবে এখানকার একজন দুর্গত মানুষও যেন মৃত্যুবরণ না করেন। এরপর নৌকায় উঠে স্বচক্ষে দেখলেন বন্যা পরিস্থিতি। গ্রামগুলো পানির উপর ভাসতে দেখে তিনি নেপলক নেত্রে তা পর্যবেক্ষন করলেন। তারপর তিনি জানতে চাইলেন দুর্গত লোকজন কোন পানি পান করছেন ? খানমরিচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন খান বললেন,স্যার সব নলকূপ ডুবে গেছে। মার্কটালী বললেন, here is water,there is water,water is everywhere,but there is no water drop to drink ! তার পরামর্শে এলাকার প্রতিটি ডুবে যাওয়া নলকুপের সাথে জনস্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত স্টীল পাইপ জোড়া দিয়ে দুই ফুট উচুঁ করে দিয়েছিল। পাবনার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মার্কটালীর পরামর্শ বাস্তবায়নের জন্য তিন দিনের মধ্যে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন। একজন সাংবাদিকের পরামর্শ এত ইফেকটিভ হয় আমার জানা ছিল না। অল্প সময়ের জন্য হলেও মার্কটালীর সান্নিধ্য আমার সাংবাদিকতাকে ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব অভয়ারণ্য। ভাব বিনিময়,সংবাদ এনালাইসিস,প্রবীণদের মতামত গ্রহন,সংকট নিরাময়,নিরাপদ দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা,ভুক্তভোগীর আরজী শোনা এবং সংবাদ পত্রে তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রেসক্লাব একটি ইনস্টিটিশন বিল্ডিং এর মত। তাই আমি সর্বাগ্রে ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাব দাড় করানোর চেষ্টা করেছি। এ কাজে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক আবু জাফর মঈন সিদ্দিকী সক্রিয় ছিলেন। তৎকালিন ইউএনও এ.এম.এম ফরহাদ ক্লাবের জায়গা দিয়েছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (বর্তমান এমপি) মোঃ মকবুল হোসেন ও ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান এড.মজিবর রহমান ক্লাব স্থাপনে আমাকে সহযোগিতা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সবার সাথেই সম্পর্ক রাখতে হয়। উপজেলায় বিশেষ করে ইউএনও এবং ওসিকে খুব দরকার হয়। আমার সাংবাদিকতায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক সহয়োগিতা পেয়েছি। ইউএনও এম.মঞ্জুর হাছান একবার আমার উপর খুব খেপে গেলেন। তখন বড়াল নদীর উপর সবে বেইলি ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। দু‘পাড়ে ওঠা- নামার সিড়ি হয়নি। বৃষ্টির সময় নারী ও শিশুরা পা পিছলে পড়ে কর্দমাক্ত হতেন। পশ্চিম পাড়ের একটি সিড়ি পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মধু ব্যক্তিগত অর্থে করে দিলেন। পুর্ব পাশের টা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের করে দেবার কথা থাকলেও তিনি গা মাখেননি। বর্ষা মওসুম শুরু হলে জনগনের দুর্ভোগ চরমে পৌছে। দৈনিক বার্তায় আমার খবরের শিরোনাম হলো‘একটি সিড়ির অভাবে জনদুভোর্গ,ইউএনও-র কুম্ভকর্ণ’। এতে তিনি রেগে আমার কর্মস্থল হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ খান স্যারের সম্মুখে আমাকে তীব্র বাক্য শুনালেন। পরের দিন ভাঙ্গুড়া বাজারে মঞ্জুর হাছানের সাথে সামনা-সামনি দেখা। আমি সালাম দিলাম। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,সত্যি আমি বুঝতে পারিনি। আজ ঐ পিচ্ছিল রাস্তায় একজন মহিলা বাচ্চাসহ উল্টিয়ে উল্টিয়ে পড়লেন। বাচ্চার চিৎকার আর মায়ের অসম্মান আমাকে ব্যাথিত করেছে। আপনার রিপোর্ট সঠিক ছিল। আমাকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। সত্য প্রকাশ করে কেউ কখনো ছোট হয়না এটাই তার প্রমান।
আমি সব সময় চেয়েছি সংবাদ পত্রে বৈধ ভাবে নিযুক্ত(নিয়োগকৃত)সংবাদকর্মী প্রেস ক্লাবের সদস্য হোক। এ রকম সংবাদকর্মীর স্বল্পতার কারনে আমি অনেকটা ব্যর্থ হয়েছি কিন্তু তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি একটি জিনিস পরিষ্কার করে লক্ষ্য করেছি যে,অসাংবাদিক প্রেস বোঝেনা,বোঝেনা সংবাদের ভাষা। একটি দুর্বল কার্ডই যেন তার সব। সংবাদ পত্রের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এ রকম ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠা দু‘চারজন আছেন যারা স্থান-কাল,পাত্র কিছু বোঝেন না। নিজের মর্যাদা সম্পর্কেও তারা সচেতন নন। একজন ব্যক্তিত্ববান সংবাদ কর্মীর কাগজের বৈধতা থাকলে সংশি¬ষ্ট পত্রিকার মর্যাদাই তাকে সমাজে স্থান করে দেয়। ডিজিটাল বাংলাদেশে সংবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে গোটা পৃথিবী। অন-লাইন নিউজ মূহুর্তের মধ্যে পৌছে দিচ্ছে পাঠকের চোখে। ইত্তেফাকের অন-লাইন এ প্রকাশ হওয়া আমার কয়েকটি রিপোর্ট বিবিসি-র সিনিয়র সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন (ইত্তেফাক থেকে আমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে লন্ডন থেকে ফোনে আমার অনুমতিক্রমে) ঐ রিপোর্ট তাদের অন-লাইনে প্রচার করেন। নিউইয়র্ক টাইমস ইত্তেফাকের অন-লাইন থেকে আমার একটি প্রতিবেদন (ভাসমান কৃষি খামার) ফলাও ভাবে প্রচার করে। এসব রিপোর্ট অষ্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ড ও আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশের বন্ধুরা পড়ে যখন আমাকে ফোন দিয়েছেন তখন আমি নিজেকে স্বার্থক মনে করেছি। কারণ বিবিসি বা নিউইয়র্ক টাইমস ঐ রিপোর্টে আমার রেফারেন্স ব্যবহার করেছিলো।
সাপ্তাহিক ‘অনাবিল সংবাদ’ এর এক বছর পুর্তি হচ্ছে ৪ জুলাই। গত বছর চাটমোহরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেকেই এর ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। সফল কতটা হতে পেরেছে তা মূল্যায়ন করবেন পাঠক কিন্তু এক বছরে অনাবিল পৌছে গেছে বহূদুরে তার স্বাক্ষী আমি নিজে। সাপ্তাহিকের পাশাপাশি “অনাবিল সংবাদ” নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চাটমোহর থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। পত্রিকাটির প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক সরকার রুহুল আমীন। সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন শাকিল ইফতেখার। ইকবাল কবীর রনজু পালন করছেন সহযোগি সম্পাদকের দায়িত্ব। অনলাইন এ পত্রিকাটি গত ১৪ ডিসেম্বর প্রথম বর্ষ পূর্তি পালন করে প্রায় দেড় বছর যাবত প্রকাশিত হয়ে আসছে। পাবনা -৩ এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন তার সকল সংবাদ মিডিয়ায় দেয়ার সময় আগে অনাবিলে দিতে বলেন। কারণ প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অনাবিলের ( চলনবিলের সংবাদ দেখেন) নিয়মিত পাঠক । দেশের বাইরেও অনেক রাষ্ট্রে অনাবিলের পাঠক তৈরি হয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার জলাবদ্ধতার একটি রিপোর্ট অনাবিলে পড়ে লন্ডন থেকে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সংশি¬ষ্ট মন্ত্রীকে ফোন দিলে ওখানকার ইউএনও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন(ঐ ইউএনও-র আগের স্টেশন ভাঙ্গুড়া ছিল)। অনাবিল ঐসব বিশেষ শ্রেণির পাঠকের কাছে আমাকেও সম্মানের আসনে বসিয়েছে। এজন্যে আমি প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক রুহুল আমিনের কাছে চীর ঋনী। ‘সাপ্তাহিক অনাবিল সংবাদ’ ও চাটমোহর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক চলনবিল’-এ মুদ্রিত আমার অনেক রিপোর্ট ইফেকটিভ হয়েছে। এজন্যে ঐ সম্পাদক দ্বয়কে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। পত্রিকা যত ছোটই হোক, একটি খবরের কাগজের সম্পাদক ও সংবাদদাতা যদি সত্য প্রকাশে আগ্রহী হন এবং সমস্যা উদঘাটন ও সমাধানের পরামর্শ দেন তা ইফেকটিভ হতে বাধ্য। ইছামতির একটি রিপোর্ট এর কারণে একবার ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন সংবাদদাতা আবুল কালাম আজাদকে আটক রেখে নিজে ও চৌকিদার দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। পুর্বে আবুল কালাম ঐ চেয়ারম্যানের পক্ষের বেশ কিছু সংবাদ ছাপিয়েছেন কিন্তু এই রিপোর্টিতে ভিজিডি দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়। ইছামতির সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মরহুম শফিউর রহমান কোর্টে মামলা ঠুকে দিলেন। চেয়ারম্যানের শাস্তি যখন নিশ্চিত প্রায় তখন এডভোকেট শাহ আলমের মধ্যস্থতায় আবুল কালাম বিষয়টি নিষ্পত্তি করে নেন। সুতরাং কাগজের একটা নিজস্ব শক্তি আছে। মিউচ্যুয়াল ডিলিংস এর কারনে সে শক্তি আজ অনেক ক্ষেত্রেই নিভু নিভু। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গনতন্ত্র দরকার। সেটা দলীয় হোক আর নির্দলীয় হোক। এখন বেশির ভাগ পত্রিকার মালিকগণ দলীয়,সম্পাদকগণ দলীয়,সংবাদদাতাগণও দলীয়। সুতরাং সাস্বীন সাংবাদিকতার স্পেস কোথায় ? নির্ভীক সাংবাদিক মানিক মিয়া,শহিদুল¬াহ কায়সার,গ্রামীণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন কাউকে ছেড়ে দিয়ে কলম চালাননি। কক্সবাজার প্রথম আলোর প্রতিনিধির জীবন হুমকীর মুখে পড়েছে স্থানীয় এক সাংসদ এর বিরুদ্ধে মাদক ও মানব পাচার খবরের কারনে। অর্থাৎ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে খবর হলেই সাংবাদিকেরও খবর হয়ে যায়। এ থেকে নি®কৃতির পথ একমাত্র গণতন্ত্রই দিতে পারে। সরকারের কাছে সকলের এমনটাই প্রত্যাশা । আমার বিশ্বাস ‘অনাবিল সংবাদ’ তার পূর্ণ বছরে পা রাখার পাশাপাশি সংবাপত্রের দায়িত্বশীল ভুমিকা টেকসই করতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। আমাদের গ্রামীণ সাংবাদিকতার ভিত্তিও তখন আরো মজবুত হবে বলে আশা করি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author