রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বনের ভেতর দিয়ে তেল ট্যাংকার পরিবহন এর পরিবেশ ও বনজীবীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এ বনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে বাচিঁয়ে রাখতে বনের ভেতর দিয়ে নৌপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। শেলা নদীতে তের নি:সরনের প্রভাব খতিয়ে দেখতে দীর্ঘ মেয়াদে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে ‘প্রথম আলো’-এর কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। সম্প্রতি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের উদ্যোগে সুন্দরবন ঘুরে আসা কয়েকজন দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সুন্দরবনে তেল ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানকার স্থানীয় মানুষ, সরকার, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম যেভাবে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, তা প্রশংসনীয়। এ প্রাকৃতিক বনকে রক্ষায় বাংলাদেশের যেমনি দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনকে রক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। শেলা নদীর নৌপথটি বন্ধের সুপারিশ জোরালো হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় গণমাধ্যম হিসেবে প্রথম আলো যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব পালন করবে।
বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, সুন্দরবনে ট্যাংকারডুবির ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষনীয়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলটি বস্তুনিষ্ঠভাবে জরিপ চালিয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। এখন বিষয়টিতে নজরদারি বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় যতটুকু ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা হয়নি। এর কারণ আবহাওয়া ও ঋতুগত। এরপরও এটি দুর্যোগ না হলেও বড় দুর্ঘটনা। এর প্রভাব নিরুপণে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
দুবাই সিটি করপোরেশনের উপদেষ্টা বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলী রেজা খান বলেন, সুন্দরবনে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি সবার কাছেই নতুন। বিষয়টি থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। সরকারকেও সতর্ক হতে হবে।
সুন্দরবন পর্যবেক্ষনে জাতিসংঘ দলের প্রধান এমিলিয়া ওয়ালস্টর্ন বলেন, ঘটনার পর যতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, আপাতদৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে ততটা ক্ষতি হয়নি। তবে তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে তার প্রভাব কতটুকু হলো, তা এই মুহূর্তেই বা কয়েক দিনের জরিপের মাধ্যমে বলাও সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা মাথায় রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরি, বাস্তবায়ন এবং নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
সেন্টার ফর ইনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের উপনির্বাহী পরিচালক মনিমুল হক সরকার বলেন, সুন্দরবন এলাকায় চিংড়ি ঘেরের কারণে নদীর নাব্যতা ও নৌ চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। এসব চিংড়ি ঘের সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া সুন্দরবনের ভেতরের নৌপথ বন্ধ করে দিতে হবে।
ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগামের (ইউএনডিপি) দেশীয় সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন,  সুন্দরবন রক্ষায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। নৌপথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলটির সমন্বয়ক পার এনডার্স বার্থলিন, ফ্রান্সের রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান (সার্ভিস রিসার্চ) স্টেফান লোফলক, বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিনিধি লোয়িক কেরামব্রুন, হারুকা ইজাকি, ইউএনডিপির প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট (এনভায়রনমেন্ট এন্ড এনার্জি) আলমগীর হোসেন।
Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author