চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজে এইচ এসসি ফরম পূরণে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায় -প্রতিকার চেয়ে ছাত্রীর আবেদন

চাটমোহর অফিস, ০২ ফেব্রুয়ারী ঃ
সরকারী করণ প্রক্রিয়াধীন পাবনার চাটমোহর ডিগ্রি অনার্স কলেজে ২০১৫-১৬ ইংরেজী শিক্ষাবর্ষের এইচ এস সির ফরম পূরণে অতিরিক্ত লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জারী কৃত বিজ্ঞাপনকে উপেক্ষা করে সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে কয়েকগুন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মফস্বল এলাকার গরীব ছাত্র ছাত্রীরা বাধ্য হয়েছেন কলেজ কর্তৃক ধার্যকৃত অতিরিক্ত ফি দিয়ে ফরম পূরণ করতে। এ নিয়ে চাটমোহরের সর্বত্র বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। রেহাই পায়নি গরীব মেধাবী উপবৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীরাও।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উক্ত কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্রী মোছাঃ রাবেয়া খাতুন (রোল নং ৩৩৭) চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ৩১ জানুয়ারী লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর রাবেয়া খাতুন ফরম ফিলাপ করতে গেলে পরীক্ষার ফি বাবদ তার নিকট থেকে ১১৭৭ নং রশীদ মূলে ৬ হাজার ৫শ টাকা এবং কোচিং না করিয়েই ১০৮৯ নং রশীদ মূলে কোচিং ফি বাবদ ৩০০ টাকা (সর্বমোট ৬ হাজার ৮শ) টাকা জোড় পূর্বক আদায় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি অনৈতিক বিবেক বর্জিত এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নীতি পরিপন্থী হওয়ায় চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজ কর্তৃপক্ষের অনৈতিক এ কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

গত ২৯ নভেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড রাজশাহী এর চেয়ারম্যানের আদেশ ক্রমে পরীক্ষানিয়ন্ত্রক তরুন কুমার সরকার ২০১৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তরুণ কুমার সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি নং রাশিবো/উমা/পনি-১৬২ মোতাবেক ১৩ নং ক্রমিকের মাধ্যমে জানানো হয় প্রতি পত্রে/ বিষয়ের পরীক্ষা ফি ৯০ টাকা, ব্যবহারিক পরীক্ষা ফি প্রতি বিষয়/ পত্রে ২৫ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৫০ টাকা, সনদ ফি ১০০ টাকা, রোভার স্কাউট/গার্লস গাইড ফি ১৫ টাকা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা।

চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজ এসব নিয়ম নীতি না মেনে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর চেয়ে চার-পাঁচ গুন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।
অনেক শিক্ষার্থী জানান, প্রায় প্রতিটি ছাত্রের নিকট থেকে কয়েকগুন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এহেন কর্মকান্ডে চাটমোহরের ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনাম হারাচ্ছে।

এ ব্যাপারে চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ছাত্রীটি নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশ করেনি। ইংরেজী আইসিটি এবং মনোবিজ্ঞান বিষয়ে ফেল করেছে। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে কিভাবে ফরম পূরণের সূযোগ দিলেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাকে পাশ কাটিয়ে ফরম পূরণ কমিটির কাউকে ধরে ফরম ফিলাপ করেছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনা তার জানার বাইরে ঘটেছে বলে জানান তিনি।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমানকে তদন্তের নিদেশ দিয়েছি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ০২ ফেব্রুয়ারী আমি তদন্ত করেছি। আগামি রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author