তাড়াশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করায় আতঙ্কে রয়েছে চৌড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

আশরাফুল ইসলাম রনি,তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করায় আতঙ্কে রয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চৌড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণি কক্ষের ভিতরের ছাদ ও বারান্দায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
১৯২৬ সালে উপজেলার তালম ইউনিয়নের চৌড়া গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। পরে ১৯৯৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবন নির্মান করেন সরকার। বর্তমানে চৌড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির পাকা ভবনের ৩টি শ্রেণিকক্ষ এবং ১টি শিক্ষকদের অফিস কক্ষ। ভবনের দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল, আবার কোথাও কোথাও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় বেরিয়ে এসেছে মূল কাঠামোর রড। বর্ষায় ফাটল দিয়ে পানি চুয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই ক্লাস করতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।ভবনটির নির্মাণের পর নতুন করে কোন মেরামত না হওয়ায় দেয়াল জুড়ে ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।
শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে আমাদের ক্লাস করতে হয় ভয়ে ভয়ে। আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান জানায়, ক্লাস চলাকালে অনেকবার ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছে। অভিভাবক ফজলুল হক জানান, আমার মেয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। কিন্তু বিদ্যালয়টির কক্ষগুলোর যে অবস্থা আমরা তাতে চিন্তায় থাকি। এছাড়াও বিদ্যালয়টি যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। আর এতে বড় দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হালিম জানান, বিদ্যালয়টির ভবনের বয়স অনেকদিন হওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সে সময়ে ভবন নির্মাণের সময় অনিয়ম ছিল বলে টেকশই হয়নি। এ কারণে ২শ’ শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ ঝুকিপুর্ণ ভবনটি পুনরায় নির্মাণের জন্য বিভিন্ন মহলে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author