ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মিন্টু কুমার বিষ্ণু‘র পাবিপ্রবিতে যত অপকর্ম !

পাবনা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্থায়ী কর্মকর্তা মিন্টু কুমার বিষ্ণু ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে এডহকভিত্তিত্বে যোগদান করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিন্টু ইবির কর্মজীবনে মাত্র দু‘বছর ৫ম গ্রেডে উপ-পরিচালক পদে চাকরী করেই পাবিপ্রবির ভিসি আল-নাকিব চৌধুরীর বিশেষ কৃপায় সকল নিয়ম ভেঙে ৪র্থ গ্রেড স্কেল বাদ দিয়ে এক লাফে ৩য় গ্রেডের পরিচালক পদে নিয়োগ পান। রাষ্ট্রীয় নিয়ম মোতাবেক ৩য় গ্রেডে আসার জন্য ৪-৫ বছরের ৪র্থ গ্রেডে চাকরীর অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও মিন্টু একদিনও ৪র্থ গ্রেডে চাকরী না করেই পাবিপ্রবি থেকে ৩য় গ্রেডের বিশাল অংকের বেতন ভোগ করছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, পাবিপ্রবির অভ্যান্তরীন পিএবিএক্স সংযোগ সংক্রান্ত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার কাজ যথাযথ শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অফিসগুলোর সকল কক্ষসমূহে এখনও পিএবিএক্স লাইনই পৌছেনি। কিন্তু মিন্টুকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে কাজ সুসম্পন্ন হবার আগেই পাবিপ্রবির অর্থ ও হিসাব অফিস থেকে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন ছোট-খাটো সম্পদের জন্য সেন্ট্রাল ষ্টোরের নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রারে স্টক এন্ট্রি করার বিধান রয়েছে। এ এন্টি ছাড়া অর্থ ও হিসাব অফিস চেক প্রদান করে না। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মত বড় অংকের বিলটি স্টক এন্ট্রি ছাড়াই পাশ করে তড়িঘরি করে চেক প্রদানের ব্যবস্থা করেছে মিন্টু।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক অফিস গ্রীন হাউজের যাবতীয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের দ্বায়িত্ব প্রকৌশলী রাশেদুল হককে দ্বায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে চতুর মিন্টু কৌশলে সে দ্বায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেয়। টেকনিক্যাল জ্ঞান সম্পন্ন প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে যাবতীয় ক্যামেরা মিন্টু নিজেই ক্রয় করে বিপুল টাকা আতœসাৎ করেন। জানা গেছে মিন্টু উক্ত ক্যামেরা তার কুষ্টিয়ার বন্ধুর দোকান থেকে ক্রয় করে। সেকেনহ্যান্ড ক্যামেরা কিনে নতুন ক্যামেরার বিপূল বিল দাখিল করে নিজেই অনুমোদন করে চেক ইস্যু করেছে। ক্যামেরাগুলো মাঝে মাঝেই বিকল হয়ে যায়। ফলে বার বার মেরামতের জন্যও মিন্টু প্রতিনিয়ত আর্থিক লাভবান হয়ে যাচ্ছে।
আরও জানা গেছে, মিন্টুকে ঘুষ না দিলে বিভিন্ন আর্থিক ফাইল পাশ হয় না। এমনকি পাবিপ্ররি কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত আর্থিক ফাইল পাশ করার জন্য মিন্টুকে ঘুষ প্রদান করতে হয়। প্রো-ভিসি দপ্তর সহ বিভিন্ন বিভাগে সংযোগ স্থাপনজনিত অর্থ ও হিসাব দপ্তরের রেজিষ্টারভুক্ত ১৭/১২/১৬ তারিখে ১৬৬৯ নং ফাইলটি পাশের ক্ষেত্রে মিন্টু পাবিপ্রবির একজন কর্মকর্তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু উক্ত সৎ কর্মকর্তা ঘুষ প্রদানে অসম্মতি জানালে মিন্টু দাখিলকৃত ফাইলই গায়েব করে দেয়। মিন্টুর স্ত্রীও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্ট্রিয়ার একজন স্থায়ী কর্মকর্তা। পাবিপ্রবিতে অবাধে আর্থিক অনিয়ম করার সুবাদে মিন্টু স্ত্রীর সাথে কুষ্টিয়ার বাড়িতে না থেকে ইবিতে ছুটি নিয়ে পাবনাতে বসবাস করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্থায়ী কর্মকর্তা মিন্টু কুমার বিষ্ণু‘র সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি স্থায়ী উপ-পরিচালক এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এডহকের অতিরিক্ত পরিচালক।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author