চাটমোহরে গভীর নলকুপ স্কীমের ফসলি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ

এস এম মাসুদ রানা :: পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে অনুমোদিত একটি গভীর নলকুপ স্কীমের ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে। বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত ওয়াজ আলীর ছেলে আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে পুকুর খননের এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সেচ কমিটিকে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু থামছেনা পুকুর খনন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৯২ সাল থেকে মথুরাপুরের ওই মাঠে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি দুই মৌসুমে গভীর নলকুপ স্কীমের আওতায় ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা। এই গভীর নলকুপ স্কীমটি উপজেলা সেচ কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করে বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল বাতেন গভীর নলকুপ স্কীম থেকে মাত্র ২০০ ফুট দুরে ফসলি জমিতে ইচ্ছামত পুকুর খনন করছেন। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়ে আইন বহির্ভূতভাবে পুকুর খনন করছেন তিনি। গভীর নলকুপ স্কীম সংশ্লিষ্টরা বাতেনকে এ বিষয়ে বারবার মৌখিকভাবে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি থামছেন না। যেখানে সেখানে বিশেষ করে ফসলি জমিতে পুকুর খননের নিয়ম বা আইন নাই। পুকুর খনন করতে গেলে প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু আব্দুল বাতেন কোনো অনুমোদন না নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে পুকুর খনন করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্কীমের জমির মধ্যে পুকুর খনন করলে পানি লাগবে না, আরামে মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে-এমন অপকৌশলী চিন্তা থেকে পুকুর খনন করছেন আব্দুল বাতেন। এতে কার কি ক্ষতি হলো তাতে কিছু যায়-আসেনা তার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মথুরাপুর গভীর নলকুপ স্কীমের ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান চন্দন বলেন, স্কীমের মধ্যে পুকুর খনন করা হলে স্কীমভুক্ত জমি ভাঙনের হুমকিতে পড়বে, স্কীমের জমিতে সঠিকভাবে সেচ দেয়া যাবে না, চাষাবাদের ক্ষতি হওয়ার সাথে গভীর নলকুপটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল বাতেন বলেন, আমি সেখানে পুকুর কাটছি না, আমার ছোট ছেলের বাড়ি করে দেয়ার জন্য মাটি কাটছি। কারণ আমার বেশি টাকা পয়সা নাই, তাই অর্ধেক মাটি বিনিময়ের মাধ্যমে কাজটি করছি। ১৫ কাঠা জমির মাটি কেটে বাকি জমির ওপর বাড়ি করা হবে। ফসলি জমিতে এভাবে মাটি কাটার অনুমোদন নিয়েছেন কিনা জানকে চাইলে বলেন, অনুমোদন নেয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, এলাকার কিছু মানুষ হিংসা পরায়ন হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেগম শেহেলী লায়লা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা বলেন, একটি গভীর নলুকপের আওতায় অনেক জমি থাকে। একজন মানুষের স্বার্থের জন্য অন্য সব কৃষকের ক্ষতি হতে পারেনা। অভিযোগ পাওয়ার পর আমি পুকুর খনন কাজ বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু সরকার দলীয় লোকদের ধরে প্রভাব খাটিয়ে আব্দুল বাতেন পুকুর খনন চালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author