নাসিরপুর গ্রামে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ ৭-৮জন জঙ্গি‘র লাশ

 মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ মৌলভীবাজার নাসিরপুর গ্রামে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ সমাপ্ত হয়েছে। আন্তঘাতী বিস্ফোরণে ভেতরে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে ৭/৮জন জঙ্গি‘র লাশ পড়ে আছে। আজ ৩০ মার্চ বিকাল ৫টায় কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ডিসি মনিরুল ইসলাম এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান- আমরা গন্ধ পাচ্ছি, আমাদের অভিযান দেখে তারা হয়তো রাতেই বিস্ফোরন ঘটিয়ে আন্তহত্যা করতে পারে বলে ধারনা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুরাও থাকতে পারে। মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্থানা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরবর্তী জেলা সদরের ১নং খলিলপুর ইউনিয়নস্থিত নাসিরপুর গ্রামের সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নামে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াত এর অভিযান গতকাল সন্ধা আনুমানিক ৬টার দিকে শুরুর পর আজ বিকালে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত ৩ জঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টার দিকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান স্থগিত ঘোষণা এবং আজ সকালে আবার ও পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সোয়াত এর একটি টিম সকাল সাড়ে ৭টায় সেখানে পৌছে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয় । কিন্তু দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে অভিযান শুরু করতে না পেরে চলে আসে শহরের বড়হাট এলাকার অপর জঙ্গি আস্তানা হিসেবে সন্দেহভাজন বাড়ির কাছে। পরে সকাল ৮টার দিকে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানা হিসেবে সন্দেহভাজন বাড়িতে পৌছায় বোম ডিসপোজাল ইউনিট। তারা বাড়ির উঠানে অবস্থান নেয়। গতরাতে অভিযান স্থগিত ঘোষণার পর বাড়ির গেটের সামনে নিয়ে রাখা হয় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ী ও একটি এ্যাম্বুলেন্স। এরপর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ওই বাড়িতে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। জঙ্গি আস্থানা সন্দেহভাজন বাড়ির চতুর্দিকে ২ কিলোমিটার জুড়ে ১৪৪ ধারা বা জরুরী অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে শহরের বড়হাট এলাকার সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা নির্মানাধিন তিনতলা ভবন পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। এই এলাকা দিয়ে কাউকে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছেনা। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সকালের দিকে দুটি সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্থানা থেকেই থেমে থেমে গ্রেনেড ও গুলির মত শব্দ শোনা গেলেও দূপুর ২টার পর থেকে আর তা শোনা যায়নি। উপস্থিত লোকজন জানান, মৌলভীবাজার-সিলেট সড়ক থেকে বাসাটির অবস্থান দেড়শ গজ ভেতরে। সরু গলি হওয়ায় সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিশেষ বাহিনীর লোকজন ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। বাইরে থেকে মানুষ গুলির ভেতরে গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে, তা পুলিশের ছোড়া গুলির শব্দ না জঙ্গিদের ছোড়া গুলির শব্দ সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ড ও কুসুমবাগ এলাকা থেকে উপজেলা পরিষদের সম্মুখ পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট পূরাতন মহাসড়কের উভয় পাশে ১৪৪ ধারা জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। পুরো শহর জুড়ে অব্যাহত রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশ দ্বার গুলোতে মোতায়ন করা হয় পুলিশ ও র‌্যাব। সন্দেহ হলে চালানো হচ্ছে তল¬াশি। শহরের ঢাকা-সিলেট সড়কের দু’পাশের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রয়েছে। মাইকে ঘোষণা হচ্ছে বাসার লোকজন যেন নিরাপদে বাসার ভিতরে অবস্থান করেন এবং বাসার ছাদে যাতে না উঠেন। এছাড়া, সারা জেলার পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস, ডিজিএফআই পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। মৌলভীবাজার শহরের প্রতিটি প্রবেশ মুখে পুলিশের চৌকি বসানো হয়েছে। শহরে প্রবেশমূখী যানবাহনে তল¬াশী চালানো হচ্ছে। গতরাতে অভিযান স্থগিত ঘোষণা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি। উলে¬খ্য- জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে পুলিশ মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার একটি নির্মানাধীন তিনতলা বাড়ি ও সদর উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের একটি একতলা বাড়ি মঙ্গলবার রাত ২ টার দিকে ঘেরাও করে রাখে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author