সিলেট প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে হাওরবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,চিন্তা করবেন না। সবসময় আপনাদের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরবাসীর উদ্দেশে বলেন,আপনাদের খবর প্রতিনিয়ত রাখছি। মন্ত্রী,প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের জন্য কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীকে ধানের সঙ্গে সঙ্গে গো–খাদ্যও দেওয়া হবে বলে জানান শেখ হাসিনা। আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলে বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। ফসল নষ্ট হয়েছে হাওরে। খাদ্যের মজুত আছে। কম পড়লে আমদানি করা হবে। কিন্তু খাবারের কষ্ট হবে না। কেউ কালোবাজারি করলে ব্যবস্থা নেব। বাংলাদেশের মানুষ যেন কষ্ট না পায়, এই লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে। আমরা ক্ষমতায় থাকলে আপনাদের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে না। হাওর অঞ্চলের বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের গাফিলতি থাকলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, হাওর অঞ্চলে মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এসব বাঁধ নির্মাণে যদি কর্তৃপক্ষ বা ঠিকাদারের গাফিলতি প্রমাণ হয়,তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল রোববার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওর এলাকা পরিদর্শনের পর উপজেলায় এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকার নদীগুলো যেন ভরাট না হয়ে যায়, সেজন্য নদীগুলো ড্রেজিং করা হবে। হাওর এলাকায় খাল কাটা হবে এবং এসব খাল যেন বেশি পানি ধারণ করতে পারে, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাওর উন্নয়ন বোর্ড সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমাদের হাওর বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ হাওরে যে পানি জমা হয়, এই পানিই সারাবছর নদীতে যায়। এই পানি হাওর এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,হাওর অঞ্চলে কৃষিঋণ আদায় করা হবে না। বেসরকারি অনেক সংস্থা কৃষিঋণ দিয়েছে। তারা সুদ আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। সুদ আদায়ের জন্য দুর্যোগে পড়া মানুষের ওপর যেন চাপ দেওয়া না হয়, এনজিওগুলোকে সে নির্দেশ দেবেন বলে জানান তিনি। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল হক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও স্থানীয় এমপি জয়া সেনগুপ্তা।
সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীক বহনকারী হেলিকাপ্টার শাল্লার সাহিদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছান।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author