তাড়াশে দিন দিন বাড়ছে লাইসেন্সবিহীন স’মিলের সংখ্যা

আশরাফুল ইসলাম রনি,তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি:
সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠছে লাইসেন্সবিহীন (স’মিল) করাতকল। এদিকে লাইসেন্সবিহীন স’মিলের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২৬টি করাতকল পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ এসব করাতকলের লাইসেন্স করা তো দূরের কথা, অনেক করাতকলের মালিক দীর্ঘদিন ধরে কল পরিচালনা করলেও এখনো লাইসেন্সের আবেদন পর্যন্ত করেননি। এছাড়া সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করাতকল পরিচালনার বিধান থাকলেও কিছু এলাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত এসব স’মিল চালান মালিকরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২৬টি করাতকল (স’মিল)রয়েছে। কিন্তু সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন না করায় এখন ওইসব করাতকলও লাইসেন্সবিহীনে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে নতুন করে স্থাপন করা দুটি করাতকলের মালিক আব্দুল জলিল ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা আপাতত দুটি স’মিল চালাচ্ছি। এখনো কাজগপত্র করিনি। লাইসেন্স করার জন্য তো অনেক কাগজপত্র দরকার। এত কম সময়ের মধ্যে তা করা সম্ভব হয়নি। তবে লাইন্সেস করার জন্য কাগজপত্র আমাদের উপজেলা করাতকল সমিতির সভাপতির নিকট জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সকল অবৈধ স’মিল গুলোতে সরকারী রাস্তার গাছ রাতের আধারে চোরাকারবারীরা কেটে নিয়ে এসে বিক্রী করে। আর চোরাইকৃত গাছ কম মুল্য কিনে অধিক লাভ হওয়ায় স’মিল এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে এ উপজেলায়।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায় দেশীগ্রাম ইউনিয়ন, রানীর-হাট, তাড়াশ সদর, মঙ্গলবাড়ীয়া, নওগাঁসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে গড়ে উঠেছে এ সকল অবৈধ করাতকল (স’মিল)।
অথচ, ২০১২ সালের করাতকল বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ করাতকল স্থাপন ও পরিচালনার জন্য লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। আর এজন্য ট্রেড লাইসেন্সসহ ভূমি অফিস কর্তৃক প্রদত্ত জমির প্রত্যয়নপত্র ও নকশাসহ বন বিভাগ বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগের কর্মকর্তা ওই এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং পরিদর্শন শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা কমিটি বরাবর লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সুপারিশের জন্য পাঠাবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। লাইসেন্সের জন্য নির্দিষ্ট ফি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে জমা চালানের এক কপি বন কর্মকর্তা বরাবর জমা দিতে হবে। করাতকল লাইসেন্সপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও বিধান রয়েছে, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে সময়সীমা উত্তীর্ণ হলে নবায়নের জন্য কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মনসুর উদ্দিন জানান, উপজেলা স’মিল সমিতির সভাপতিকে নোটিশ দেয়া হয়েছে স’মিলগুলোর লাইন্সেস করার জন্য। তাছাড়া বেশকিছু স’মিল মালিকরা লাইন্সেস করেছেন। এদিকে ভ্রাম্যমান আদালত নিয়মিত চলছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author