প্রধান সূচি

চলনবিলের হাট-বাজারে ভেজাল খেজুর গুড়

লিপন সরকার চলনবিল প্রতিনিধি : চলনবিলের হাট-বাজারে মৌসুমি খেজুরের গুড়ে চিনি, ক্ষতিকারক হাইড্রোজ, ফিটকারি মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে কিছু অসাধু গাছি খেজুরের গুড়ে এসব ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ক্রেতাদের। ভেজাল মেশানো এসব খেজুরের গুড় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে যেসব গুড় বিক্রি হচ্ছে তার অধিকাংশই চিনি মেশানো।
বিশেষ করে গুড়ের রং আকর্ষণীয় করতে এবং গুড়ের ময়লা কাটাতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল হাইড্রোজ ও ফিটকারি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় আব্দুল মজিদ বলেন, প্রতি কেজি গুড়ে ৪০০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চিনি মেশানো হয়। কেননা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৫০-৫৫ টাকায় আর প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০-১২০ টাকায়। তাড়াশ পৌর সদরের জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্রামাঞ্চলে যেসব গাছি খেজুর গাছ লিজ নিয়ে গুড় তৈরি করেন তাদের ক্ষেত্রেই ভেজাল মেশানোর হার বেশি। আবার যারা নিজেরা কাছে বসে থেকে গুড় বানিয়ে নিয়ে ক্রয় করেন তাদের ক্ষেত্রে আলাদা। কারন চোখের সামনে ভেজাল মেসাতে পারে না।

উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সিলংদহ গ্রামের গাছি সবুর আকন্দ জানান, শুধু গৃহস্থের গুড়ে ভেজাল থাকে না। তবে যারা ব্যবসা করার জন্য খেজুর বাগান লিজ নিয়ে খেজুর গুড় তৈরি করেন তাদের অধিকাংশই গুড়ে চিনি মেশান। মূলত বেশি লাভের আশায় তারা এ কাজ করছেন। অনেকেইে জানান, আগের মতো এলাকায় আর খেজুরগাছও দেখা যায় না।

মূলত গ্রামাঞ্চলে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের নামে আগাছার সঙ্গে খেজুরগাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে করে খেজুরগাছের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। শীতকালে প্রতিটি বাড়িতে পিঠা-পায়েশের আয়োজন করা হয়, যা সামাজিক রেওয়াজ। তাই খেজুরের গুড়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু চাহিদা ও দাম থাকায় মৌসুমি গুড় তৈরিতে যারা নিয়োজিত তারা চিনি ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করে থাকেন। তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামাল মিঞা শোভন জানান, গুড়ে মেশানো চিনি ক্ষতিকারক না হলেও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল হাইড্রোজ ও ফিটকারি ব্যবহারের ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।