প্রধান সূচি

সিংড়ায় হাফ কিঃ রাস্তার জন্য ১ যুগ ধরে অপেক্ষা গাড়াবাড়ি সরিষাবাড়ি গ্রামবাসী

জামিমা তানভিন রোজী সিংড়া(নাটোর) প্রতিনিধিঃ
মাত্র ৫০০ মিঃ রাস্তা পাকাকরনের অপেক্ষায় র্দীঘ ১যুগ ধরে দিন গুনছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি সরিষাবাড়ি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। গ্রামবাসীরা জানায় ২০০৯ সালে বরেন্দ্রবহুমুখী প্রকল্পের আওতায় সিংড়া-বারুহাস মহাসড়কের বিয়াশ থেকে ১ কিঃমিঃ রাস্তা পাকাকরন করা হয় যা ওই দুটি গ্রামে প্রবেশ পথের ৫০০ মিঃ দুরেই শেষ হয়। সেই থেকে ওই কাচা রাস্তা দিয়েই যাতায়ত করে আসছেন গ্রামের সাধারন মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বাকি ৫০০ মিঃ রাস্তা পাকাকরনের আশ্বাস পাওয়া গেলেও প্রায় ১ যুগ পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এভাবে অপেক্ষার দিন গুনছেন ওই গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল চিত্র দেখা যায়। গাড়াবাড়ি গ্রামের জনপ্রতিনিধি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ আকবর হোসেন বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তার দুর্ভোগ বেড়ে যায়। ১ কিঃ রাস্তা দিয়ে ভ্যানে চড়ে গ্রামের কাছে এসে পাকা রাস্তার মাথায় নেমেই শুরু হয় দুর্ভোগ। জুতা খুলে কাঁদা মাখা অবস্থায় বাড়ি ফিরতে হয়। কৃষিপণ্য সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কাঁধে বা কখনো মাথায় নিয়ে ফিরতে হয় বাড়িতে। মটর বাইক আরোহী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোস্তাক বিন সুলতান বলেন,সামান্য এই কাঁচা রাস্তার জন্যই বর্ষার মৌসুমে আমরা মটর বাইক চালাতে পারিনা। আকাশে মেঘ দেখলেই হয় বাড়িতে না হয় বিয়াশ বাজারে মটর বাইক রেখে পায়ে হেটে চলাচল করতে হয়। ওই গ্রামের সোহেল রানা,রফিকুল ইসলাম জানান, এই টুকু রাস্তা দুর্ভোগের কারনেই আমাদের গ্রামে ধানের ব্যবসায়ীকদের কাছে প্রতিমণ ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমে ধান বিক্রয় করতে হয়। সরিষা বাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৬ সালে আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ উদ্বোধন করতে এসে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি মহোদয় এই রাস্তা পাকা করনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২নং ডাহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল মজিদ মামুন বলেন, গাড়াবাড়ি সরিষাবাড়ি মুলত দুটি গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ মুজিব আদর্শের। অনেকের কাছে তাই গ্রাম দুটি মুজিব নগর হিসাবেও পরিচিত। দেশের এই উন্নয়ন লগ্নে মুজিব আদর্শের গ্রাম দুটি মাত্র ৫০০ মিঃ রাস্তা পাকা করনের অভাবে আজ সবার কাছে অবহেলিত। আমি প্রতি মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরনের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হাসান আলী বলেন,চলনবিল প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তার তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে রাস্তার কাজ শুরু বরা হবে।