প্রধান সূচি

চলনবিলাঞ্চলে চলছে  ‘মা মাছ’ নিধনের মহাৎসব

লিপন সরকার চলনবিল প্রতিনিধি: বর্তমানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। চলনবিলের খালে বিলে বর্ষার পানি আসতে শুরু করেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলনবিলাঞ্চলে চলছে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধনে মহোৎসব। যাকে বলে পীরের মাছ।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, চলনবিলে বর্ষার আগমনে খালের পানিতে মাছ আসতে শুরু করেছে। এ সময় কম পানিতে ডিমওয়ালা বড় বড় বোয়াল মাছ ডিম ছাড়ার জন্য পানির মধ্যে লাফালাফি করে। তখনই প্রতিনিয়ত মাছ শিকারীরা যুতের সাহায্যে পার দিয়ে কৌশলে মাছ শিকার করছে। কারণ ডিম ছাড়ার জন্য বড় মা বোয়াল মাছ উপরে উঠে আসে। পাশাপাশি ছোট (পুং) মাছ বড় মাছের ডিমের থলিতে কামড়ে দিলে বড় মা মাছের ডিম নিঃসরণ হয়। মূলত, মা মাছের ডিমের কামড়েই উপরে উঠে এবং মাছ শিকারীর হাতে ধরা পরে। এটিকে চলনবিলের আঞ্চলিক ভাষায় ‘পীরের মাছ’ বলে থাকে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পিয়ারাপুর কুচিয়ামারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল খালেক সরকার বলেন, প্রতিদিন দলবেধে এ অঞ্চলের মানুষ, চলনবিলের খালে গিয়ে বড় বড় বোয়াল মাছ ধরছেন। একেকটা মাছের ওজন ৪ কেজি থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত । হামকুড়িয়া গ্রামের শাহাদত হোসেন চার কেজি ওজনের বোয়াল মাছ ধরেছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭শ টাকা কেজি।
এছাড়া হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার মাছ শিকারী আব্দুল মালেক জানান, তিনি ১০ কেজি ওজনের একটা ডিমওয়ালা বোয়াল মাছ (পীরের মাছ) ধরেছেন। পরে গ্রামেই সেই পীরের মাছ ৭শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তিনি মাছটি ধরেছেন হাটিকুমুরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৮নং ব্রীজ এলাকায় চলনবিলের খাল থেকে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: মশগুল আজাদ জানান, ডিমওয়ালা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অভিযান অব্যহত থাকবে।