প্রধান সূচি

পদ্মাসেতুর রেলপথের স্ল্যাব বসানো শেষ

পদ্মাসেতুর রেলপথের সব স্ল্যাব বসানো শেষ হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতুতে ২ হাজার ৯৫৯টি কংক্রিট স্ল্যাবের মাধ্যমে জোড়া দেওয়া হয়েছে। তবে মূল সেতু থেকে মাটি পর্যন্ত পথের কাজ শেষ হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে তা শেষ হওয়ার কথা আছে। এরপর রেললাইন বসানো হবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর জুনে পদ্মা সেতু চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। এর ওপর তলায় চলাচল করবে যানবাহন। নিচতলায় চলবে ট্রেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল কাদের জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধীনে মূল সেতুতে রেলপথ এবং সেতুর দুই প্রান্তে ৫৩২ মিটার উড়ালপথ তৈরি করছে সেতু বিভাগ। অন্যদিকে সেতু ও এর দুই প্রান্ত রেললাইন বসানোর দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এ জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে।

এখন রেললাইন বসানো ও স্টেশনের কাজ শেষ করতে হবে। অবশ্য আগামী এক বছরে তা পুরোপুরি সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান প্রকল্প কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, সেতুর ওপরের ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেললাইন বসাতেই ছয় মাস লাগবে। জুনে সেতু চালু করলে জানুয়ারির শুরুতেই নির্ধারিত পথ বুঝিয়ে দিতে হবে।

তবে পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র বলছে, রেলপথের পাশে গ্যাসের পাইপলাইন বসানোসহ আরও কাজ বাকি আছে। রেল ও সেতুর আলাদা দুই সংস্থা এবং দুই ঠিকাদার একসঙ্গে কাজ করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের আগে রেলপথ বুঝিয়ে দেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে দুই প্রান্তে রেললাইন বসালেও সেতু চালুর প্রথম দিন ট্রেন চালানো কঠিন হবে।প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যানবাহন চলাচলের পথে স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হলে এর ওপর দুই মিলিমিটারের পানি নিরোধক একটি স্তর বসানো হবে, যা ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন নামে পরিচিত। এটি অনেকটা প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের মতো। তারপর পাথর, সিমেন্ট ও বিটুমিন দিয়ে কয়েক স্তরের পিচ ঢালাই হবে। এর পুরুত্ব প্রায় ১০০ মিলিমিটার।

নদীতে পিলারের ওপর স্টিলের কাঠামো (স্প্যান) দিয়ে তৈরি হয়েছে মূল সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এর বাইরে দুই প্রান্তে ঢালু উড়ালপথের মাধ্যমে মূল সেতুকে মাটির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ভায়াডাক্ট নামে পরিচিত এ উড়ালপথের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াচ্ছে ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার।