প্রধান সূচি

চাঁদাবাজদের দৌরত্বে কোটি টাকায় ঘাট নিয়ে বিপাকে ইজারাদার ও ট্রলারমালিকরা

পায়েল হোসেন রিন্টু ( ঈশ্বরদী সংবাদদাতা ) চাঁদাবাজদের দৌরত্বে কোটি টাকায় ঘাট নিয়ে বিপাকে পরেছেন ইজারাদার ও ট্রলারমালিকরা। বাঘা লখিনাপুর আহম্মদ কনেস্ট্রাকশনের নামে ২ কোটি ৬ লক্ষ টাকায় ১ বছর মেয়াদে বালিঘাট ইজারা নেওয়া হয়। এখান থেকে প্রতিদিন ১০০ টি ট্রলার বিভিন্ন যায়গায় বালু বহন করে ,যাদের কাছে থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।
২০২১ সালের পহেলা বৈশাখ বাঘা লখিনাপুর বালুঘাটটি ২ কোটি ৬ লক্ষ টাকায় ১ বছর মেয়াদে ইজারা নেয় আহম্মদ কনেস্ট্রাকশন। এখান থেকে প্রতিদিন ১০০ টি ট্রলার বালু উত্তোলন করে রাইটা পাথর ঘাট, সাড়াঘাট, পাকশীঘাট, ভেড়ামারাঘাটসহ বিভিন্ন যায়গায় বালু বহন করে। বালুভর্তি এইসব ট্রলার থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । লখিনাপুর ঘাট থেকে ট্রলারগুলো যখন বিভিন্ন ঘাটে যাতায়াত করে তখন ট্রলারপ্রতি হবিরচরে সাঈদ ও মিঠু গ্রুপকে দিতে হয় দুই হাজার টাকা, কিছুদূর পেরিয়ে রাইটা ঘাটে মাহাবুল হাতুর ও মকবুল গ্রুপকে দিতে হয় দুই হাজার টাকা, এছাড়াও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে চাঁদা গুনতে হয় ট্রলার মালিকদের।- ট্রলার প্রতি ৫/৭ হাজার টাকার হিসাবে ১০০ টি ট্রলারে প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয় ৫ লক্ষ টাকার উপরে , যেটা মাসিক হিসাবে দাড়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা। টাকা না দিলে মারধরসহ দেয়া হয় প্রান নাশের হুমকি ।
এই সব চাঁদাবাজদের গ্রুপে ১০-১২ জন করে সদস্য থাকে, যাদের অধিকাংশের নামে আছে অস্ত্র, মার্ডার, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে এসে আবারও একই কাজে যুক্ত হন তারা। অভিযোগ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এইসব গ্রুপ। যাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করেন না কেউ।
হবিরচরে চাঁদা তোলেন ২০০১ পরবর্তী সময়ের লালচাঁন বাহিনীর সাঈদ ও মিঠু গ্রপের জমির, নেহারুল গিট্টু, নয়ন, সোহেল, জালাল, ইলিয়াস, হিজ্জু, জব্বারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র আর রাইটা ঘটে চাঁদা তোলেন মাহাবুল হাতুর ও মকবুল গ্রুপের রিয়াজুল, আইনুল, সাইফুল, প্রদীপ, টুএলসহ একটি চক্র। আর এই দুই ঘাটের চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রক মূলহোতা ভেড়ামারার আজিজ নিজেকে পরিচয় দেন আওয়ামীলীগের বড় নেতা। তাই কোনভাবেই যেন তাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এই চাঁদাবাজি ও হয়রানীর বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ আব্দুল হান্নান মিয়া জানান । যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমাকে জানালে আমি ব্যবস্থা নিবো ।