প্রধান সূচি

ভাড়া না দিয়েই সরকারি ভবনে বসবাস!

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় নৈশপ্রহরি, গাড়িচালকসহ চারজনের নামে কোনো সরকারি বাসভবন বরাদ্দ নেই। তবু তাঁরা সরকারি বাসভবনে থাকেন। এ জন্য কোনো ভাড়াও পরিশোধ করেন না। দীর্ঘদিন বিনা ভাড়ায় বসবাসের জন্য সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছেন।এছাড়াও তাদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
জানা যায় ,সিংড়া উপজেলা চত্তরে অবস্থিত প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বসবাসের জন্য থাকা এসব ভবনে র্দীঘতিন ধরে বিনা ভাড়ায় বসবাস করে আসছেন এমনো অভিযোগ আছে কারো কারো বিরুদ্ধে। আবার কারও কারও উপজেলা সংলগ্ন নিজ বাসভবন হওয়ার পরেও নিজ বাসা ভাড়া দিয়ে ফ্রি থাকেন এই সরকারী বাসভবনে।

সূত্রে জানা যায়, নৈশপ্রহরি, গাড়িচালকসহ চারজন কেউ ৩ বছর, কেউ দেড় বছর, কেউ কেউ আবার ৩ ও ৬ মাস যাবৎ বিনা ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন সরকারি ভবনে। উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসা বরাদ্দ কমিটির পক্ষ থেকে বার বার নোটিশ দেয়ার পরেও ভাড়া পরিশোধ করেননি কেউ। এমনকি বাসা ছাড়ার জন্য নোটিশ করলেও তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর বিনা ভাড়ায় বসবাস করে আসছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার এর গাড়িচালক মো. সেলিম রেজা। তিনি সরকারি বাসভবনের শাপলা ভবনের ৪ নম্বর ইউনিটে প্রায় ৩ বছর যাবৎ বিনা ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ের নৈশপ্রহরি মো. মোতালেব হোসেন। তিনি মাধবী ভবনের ১ নম্বর ইউনিটে ৩ মাস ধরে বসবাস করছেন। ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা, সাবেক উপজেলা টেকনিশিয়ান রফিকুল ইসলাম চামেলি ভবনের ২ নম্বর ইউনিটে গত বছরের জানুয়ারি থেকে বসবাস করছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ট্রেনিং সেন্টারে প্রায় ৬ মাস যাবৎ বাস করছেন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের নৈশপ্রহরি মো. ফজলু।

নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রত্যককে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে মাসিক ভাড়া পরিশোধ করার কথা। কিন্তু তাঁরা তা করেননি। বিনা ভাড়ায় সেখানে বসবাস করছেন। এতে করে সরকার প্রায় ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ের নৈশপ্রহরি মো. মোতালেব হোসেন জানান, ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ইউএনও স্যার আমাকে বসবাস করতে দিয়েছে। আমি ডিসেম্বরে চলে যাবো।

উপজেলা কৃষি অফিসার এর গাড়িচালক মো. সেলিম রেজা’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাহিরে আছি, এসে কথা বলবো।
একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা পরিষদের আবাসিক ভবনগুলো দেখ ভাল ও বরাদ্দ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য বাসা বরাদ্দে অনিয়মের ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু উপজেলা নির্বাহী অফিসার নামে বাসা বরাদ্দ রয়েছে। বাকী কর্মচারীরা আবাসিক ভবনগুলিতে বসবাস করলেও তাদের নামে কোন বাসা বরাদ্দ নেই।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তাঁদেরকে কয়েকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে বাসা ভাড়া পরিশোধ করার জন্য। তাঁরা পরিশোধ না করায় বাসা ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাতেও তাঁদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানদের তাঁদের তাগিদ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপরেও যদি তাঁরা ভাড়া পরিশোধ না করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ এতে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।