প্রধান সূচি

বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, রেশনিং ও ঝুঁকি ভাতা চালুর দাবি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর

 ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা ॥ অনেক দিন থেকেই রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর বেতন বৈষম্য দূরীকরণ,রেশনিং ও ঝুঁকিভাতা চালুর দাবি করে আসছে। সূত্র মতে, একই রকমের ট্রেনিং নিয়ে রেলওয়েতে দায়িত্ব পালন করে জিআরপির ঝুঁকি ভাতা ও রেশনিং চালু রাখা হলেও নিরাপত্তা বাহিনীকে এসব সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে । অথচ এ বাহিনী হরতাল,জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো দুর্যোগ মোকাবেলা ও মহামারি করোনা কালিন সময়েও নিষ্ঠার সাথে দায়িত পালন এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে সেবাদান ও রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন করলেও কোন উন্নয়ন, আধুনিকায়ন বা সুবিধা পাচ্ছে না রেলওয়েতে নিরাপত্তা বাহিনীকে । চাহিদার তুলনায় বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কম থাকায় বর্তমানে এ বাহিনীর একজন সিপাহীকে অমানবিকভাবে তিন শিফ্টে ডিউটি করতে হচ্ছে। পক্ষান্তরে রেলওয়ে জিআরপি সদস্যকে তিন শিফ্টে ডিউটি করতে হয় না। সূত্রের দাবি,দেশে জনসংখ্যার চাপ, নানা প্রকার বৈধ-অবৈধ, মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের ভিড়ে সড়কপথে সৃষ্ট যানজটের কারণে যাত্রী ভোগান্তিলাঘব কল্পে সরকার নানা প্রকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। যাত্রী ভোগান্তি লাঘব ও আর্থিক লাভের জন্য রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন রেল পথ নির্মান করা , ষ্টেশন নির্মান ট্্র্যাক নির্মাণসহ বিভিন্ন বিভাগে
প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন প্রকার ট্রেন,যাত্রীর নিরাপত্তাবিধান ও সম্পদ রক্ষাকারী রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী হওয়া সত্ত্বেও এর কোন উন্নয়ন করা হয়নি। ১৯৭৬ সালে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এ বাহিনীর পূর্বনাম ‘ওয়াচ এ্যান্ড ওয়াডর্’ বিলুপ্ত করে ‘রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী’ গঠন করা হয়। ১৯৭৯ সালে পৃথক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সারাদেশে ২০টি চৌকির সহায়তায় রেলওয়ের অস্থাবর সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখা ব্যক্তি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার, চৌকিতে মামলা রজ্জু করা, মামলার তদন্ত করা, গ্রেফতার কৃতদের আদালতে প্রেরণ করা ও সংশ্লিষ্ট মামলা পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। রেলওয়ে সম্পদ রক্ষণা- বেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত এই বাহিনীর সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে এ বাহিনীর চাহিদার তুলনায় সদস্য সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। তারপরও কখনও কখনও একজন সদস্যকে তিন শিফ্ট করেও ডিউটি করতে হয়। অথচ রেলওয়ের এ বাহিনী এখন পর্যন্ত রেলওয়ে জিআরপিসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়নি।

চালু করা হয়নি কোন রেশনিং, ঝুঁকিভাতা, যানবাহনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারীকরন করাও হয়নি বেতন বৈষম্য। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ বাহিনীতে প্রথম, তৃতীয় ও চতুথ ভৈল শ্রেণির পদ থাকলেও সৃষ্টি করা হয়নি দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো পদ। এই বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট থেকে চিফ কমান্ড্যান্ট পর্যন্ত পদগুলো প্রথম শ্রেণির অথচ সাব ইন্সপেক্টর ,ইন্সপেক্টর ও চিফ ইন্সপেক্টর সবাই তৃতীয় শ্রেণির কমর্র্কত। সিপাহিগণ চতুুথর্ শ্রেণির অন্তরর্ ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ বাহিনীর কমর্র্কতারাও তৃতীয় শ্রেণির নায়েক ও হাবিলদারের সমতুল্য পদ মর্যাদা বহণ করছেন। এ কারণে এ বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বেঁধে রয়েছে। বতর্মান দেশে রেলওয়ের দু’অঞ্চলে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের স্থলে দু’চীফ কমান্ডেন্টসহ প্রায় ৩ হাজার সদস্য কমর্রত রয়েছেন। এসব অঞ্চলে ২ জনকে চিফ কমান্ড্যান্ট পদে পদায়ন করা হলেও তারা মূলতঃ চিফ পদ মর্যাদার কর্মকর্তা নয়।

দু’চীফ কমান্ডেন্টকেও আবার চীফ পদ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কমান্ড্যান্ট বছরে মাত্র ১২শ’ টাকা এবং চিফ ইন্সপেক্টর মাত্র ৯শ’ টাকা করে পোশাক ভাতা পান।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সব সময়ই ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়। ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনার শিকার হতে হয়। হতাহতের ঘটনা ঘটলেও অদ্যবধি তারা ঝুঁকিভাতা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ বাহিনীর দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্ষোভ দুর করা বর্তমান উন্নয়নমুখি সরকারের জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।