প্রধান সূচি

সাঁথিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর, আহত দুই। নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ
বয়সের ভারে নুজ্ব্য। নাম গোলেজান বেওয়া। বয়স আশির্ধো। নিবিড় পল্লীতে বাস। স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী ও নব্য আওয়ামীলীগেরে লেবাসধারীদের হামলা এবং নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। হামলায় বসত ঘর ভাংচুর ও দুইজন আহত হয়েছে। দৃশ্যপটটি পাবনার সাঁথিয়ার সলঙ্গী গ্রামে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পুর্ব শত্র“তার জের ধরে শুক্রবার রাতে (২৪সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে একই গ্রামের শফিজ এর নেতৃত্বে ১০/১২জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধোপাদহ ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম আবুল হাশেম সরোয়ার মাষ্টারের বাড়ীতে আকষ্মিক হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তিনটি বসত ঘর ভাংচুর করে। এসময় ঘরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনার ছবি ফেলে দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। তাদের হাতে লালমিয়া (৫০) ও তসলিমবারী আহত হয়। লালমিয়া সাংবাদিকদের বলেন, শফিজ এর নেতৃত্বে ১০/১২জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের তিনটি ঘর কুপিয়ে ভাংচুর করে তাদের আহত করে। লালমিয়ার ভাই মিজানুর বাদী হয়ে কয়েক জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ কাউকে আটক করছে না। আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।
মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী গোলজান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমার স্বামী আ’লীগের সমর্থক হওয়ার কারনে নিজামীর লোকেরা আমাদের বাড়ীতে হামলা করেছে। যুদ্ধের সময় আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় স্বাধীনতা বিরোধীদের ভয়ে কচুরী পানার পানিতে ডুবে, অন্য লোকের খড়ের পালার নিচে লুকিয়ে প্রাণ বাচিয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আবার ওই চক্র আর আ’লীগের কিছু লেফাসধারীরা আমার বাড়ী ভাংচুর করেছে। আমি ছেলেদের নিয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
এবিষয়ে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ লতিফ বলেন ঘটনাটি জানার পর ওসিসহ পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। তিনি সঠিক বিচার চান।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন তিনি ছুটিতে ছিলেন ওসি তদন্তের সাথে বিস্তারিত জানেন। ওসি তদন্ত নাসির উদ্দিন বলেন আহতরা অভিযোগ দিতে এসে অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।