প্রধান সূচি

রউল বিলে মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত

ইকবাল কবীর রনজু, চাটমোহর পাবনা :;

২৭ নভেম্বর শনিবার পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রউল বিলে মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর পানি কমে যাওয়ার পর চলনবিলের বিভিন্ন বিল ও নদীতে এমন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শত শত সৌখিন মৎস শিকারী মোবাইল ফোনে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এ বিলে পলো, খেয়াজাল, বাদাইজাল, ডোরা জাল, খরা জাল দিয়ে মাছ শিকারে আসেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৌখিন মাছ শিকারীরা শৈল, বোয়াল, গজার, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন ধরণের মাছ শিকার করেছেন।

সরেজমিন শনিবার সকালে রউল বিলে গেলে দেখা যায়, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিভিন্ন রুট হয়ে বাস, ট্রাক, লসিমন, করিমন, ভ্যান, রিকসা, সাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকসা, মোটরসাইকেল যোগে হাজার হাজার সৌখিন মাছ শিকারী এ বিলে মাছ ধরতে এসেছেন। ঠান্ডা পানিতে নেমে মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা। হাত পলো, পাও পলো, নেট পলো ছাড়াও খেওয়া জাল, ঠেলা জাল, কারেন্ট জাল, ডোরা জাল, হাত খড়াসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। কৃষক, জেলে, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় রউল বিল। মাছ পাওয়া বা না পাওয়া বড় কথা নয় এ উৎসবে অংশ গ্রহনেই আনন্দ বলে জানান সৌখিন মৎস শিকারীরা।

পলো নিয়ে মাছ শিকারে আসা আটঘরিয়ার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুর রহমান, ইয়াকুব আলী, আনোয়ার হোসেন, নাটোরের গুরুদাসপুরের দক্ষিণ নাড়িবাড়ি গ্রামের আক্কাস আলী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আঙ্গারু গ্রামের আব্দুস সালামসহ অন্যান্য মাছ শিকারীরা জানান, তাদের অনেকে প্রায় প্রতি বছরই রউল বিলের মাছ উৎসবে আসেন। মাছ ধরা উৎসবে এসে মাছ শিকারের আনন্দ-অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তারা আরো বলেন, আমরা মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগের জন্য প্রতিবছর এ সময় টার অপেক্ষায় থাকি।

বিলের কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমড় পানি, কোথাও গলা পানি আবার কোথাও তার চেয়ে ও বেশি পানি। মাছ শিকারের সময় অপেক্ষাকৃত ছোটরা বিলের পারে এবং বড়রা মাঝের দিকে থাকেন। কারো পলো বা জালে মাছ পরলে অন্যরা মাছটি ধরতে তাকে সহায়তা করেন। পলোর মধ্যে মাছ পরলে পলোর উপরাংশের মুখ দিয়ে পলোর মধ্যে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরে লোহার ধারালো শিক দিয়ে মাছ ছিদ্র করে মাজায় বেধে রাখা নাইলন সুতোর হালচেয় বেধে রাখেন মাছ। কখনো কখনো “আল্লাহ আল্লাহ রাসুল বলো লা ইলাহা” এমন সমবেত কন্ঠস্বর যেন যোগ করে আনন্দের বাড়তি মাত্রা। রুই, কাতলা, আইড়, ষোল, বোয়াল, জাপানী রুই, সিলভার কার্প, মিনার কার্প, বড় টাকিসহ বেশ কিছু প্রজাতির মাছ পেতে দেখা যায় মাছ শিকারীদের। কখনো সাড়ি বদ্ধ ভাবে কখনো বিশৃঙ্খল ভাবে মাছ শিকার করতে করতে সর্পিল গতিতে সামনের দিকে অগ্রসর হন তারা।

মাছ শিকারীদের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, এবার এ বিলে কম মাছ ধরা পরেছে। কারেন্ট জাল, চায়না জালের প্রভাবে মাছ কমে যাচ্ছে। অনেকে মাছ পেয়েছেন আবার অনেকে মাছ পান নি। তবে আনন্দটা উপভোগ করেছেন সবাই মিলেই।