প্রধান সূচি

বাগমারায় মাদক দ্রব্যের রমরমা ব্যবসায় অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাদক দ্রব্যের রমরমা ব্যবসায় অভিভাবক মহল তাদের সন্তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে চলছে মাদক ব্যবসা। মাঝে মাঝে প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও গোপনে প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন সিন্ডিকেট। এখন উপজেলার প্রায় শতাধিক স্পটে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে পুরাতনের পাশাপাশি নতুন নতুন সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরেও রয়েছে। তবে হেরোইন,ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের নব গঠিত কয়েকটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সন্ধান পেলেও তাদেরকে রহস্যজন ভাবে গ্রেফতার করছেনা পুলিশ। ফলে পুরাতন নতুন ব্যবসায়ীরা বেপরায়াা হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,বাগমারা উপজেলাজুড়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলে মাদকের ব্যবসা। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বেশকেছু দিন আগে ভবানীগঞ্জ বাজারে র‌্যাবের অভিযান একবার হলেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এখনো গোপনে ও প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কেনাবেচা। মাদকসেবীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে চাহিদামত মাদক সরবরাহ করে আসছে বলে জানা গেছে। এলাকায় মাদকের বিস্তারের জন্য স্থানীয়রা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন। এছাড়া মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় চুরির ঘটনা বাড়ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ভবানীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন দোকানে চুরির ঘটনায় মাদকাসক্তরা জড়িত থাকার সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। নেশার টাকা যোগাড় করতেই চুরির পথ বেছে নিচ্ছে তারা এমন অভিমত তাদের। সিনামার হল মোড় ও বাজারের মাষ্টার পাড়ায় মাদকের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়াও হেলিপ্যাড মাঠের পেছনেসহ কয়েকটি স্পটে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা চলছে। অপরদিকে তাহেরপুর পৌর এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে। তাহেরপুর-দুর্গাপুর রোড়, বাধ এলাকা,হরিফলার বাধ এলাকাসহ কয়েকটি স্পটে চলছে মাদকের কেনাবেচা। স্থানীয়রা জানায়, রাজশাহীর চারঘাটের টাঙন এলাকার চোরাচালানির সহযোগীতায় ওই এলাকা হতে মাদকের চালান এনে তা বাগমারার তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, শিকদারী থেকে বিভিন্ন গ্রামে সরবরাহ করা হয়। পার্শ্ববর্তী আত্রাই উপজেলার চিহ্নিত কিছু মাদকসেবী মটরসাইকেল যোগে বাগমারায় এসে নির্বিঘেœ মাদক সেবন করছে। সম্প্রতি শিকদারী বাজারে তাদের আনাগোনায় ওই বাজারের ব্যবসায়ী মহল উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছে। হাত বাড়ালেই ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর মোহনগঞ্জ,মচমইল বাজার, হাট গাঙ্গোপাড়া বাজার, শিকদারীসহ বিভিন্ন স্পটে ফেন্ডিডিল, হেরোইন,ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার অনেক রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যাক্তি, শিক্ষক ছাত্র, ভ্যান চালকসহ অনেকেই মাদক সেবনে জড়িত হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে নিত্য নতুন কৌশলে চলছে মাদক ব্যবসা ও সেবন। এর আগে তাহেরপুরের সহদও দুই ভাই ও বাসুপাড়া ইউনিয়নের দ্বীপনগর এলাকার জনৈক শিক্ষকের অতিরিক্ত মাদকসেবনে মৃত্যু হলেও থেমে নেই ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা। মচমইল বাজার এলাকায় অতিরিক্ত স্পিরিট পানে যুবকের মৃত্যু হলেও ওই এলাকায় আঁড়ালে চলছে মাদক ব্যবসা। এছাড়াও ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকের প্রকোপ ওই এলাকায় বেশী বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মচমইল বাজারের জনৈক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। এছাড়াও বীরকুৎসা বাজার, তালঘরিয়া পলিথিন বাজারের সড়কুতিয়া রোড, গাঁজা ব্যবসা ও সেবন এখন ওপেট সিক্রেট। ফলে হতাশাগ্রস্থ বেকার যুবকরা বেশী ঝুঁকছে মাদকের গহীন অরণ্যে। আর এসব যুবকই নানা নিষিদ্ধ ঘোষিত পার্টির সৃষ্টি করতে পারে এমন আশংকা এলাকাবাসীর। তবে অচিরেই মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাগমারা মুক্ত করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন উপজেলাবাসী। এবিষয়ে বাগমারারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।