প্রধান সূচি

বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকায় স্বপ্ন বুনছেন ফেরিওয়ালারা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে গাড়িতে, বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, রিকশায় এমনকি দুই চাকার মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের সামনে দুলছে লাল-সবুজ পতাকা। এই লাল সবুজ দোলার মাঝে আছে এক অন্য সৌন্দর্য, আছে অহংকারের গল্প। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে সামনে রেখে সেই সৌন্দর্য প্রদর্শন করছেন রতন আলী। বয়স ২৮ বছর। পেশায় ফেরিওয়ালা হলেও বিজয়ের মাসে তার পরিচয় ভিন্ন, বিজয়ের মাসে তিনি লাল-সবুজ পতাকার ফেরিওয়ালা। সারা বছর তিনি নানা রকম পণ্য ফেরি করে বিক্রি করলেও ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে তিনি ফেরি করে পতাকা বিক্রি করে স্বপ্ন বুনছেন।
রতনের মতো কয়েকজন পতাকার ফেরিওয়ালার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিজয় দিবস সামনে রেখে গুরুদাসপুরে পতাকার উৎসব চলছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে পতাকা বিক্রির ধুম পড়ে। চলবে বিজয় দিবস পর্যন্ত। এই সময়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পতাকা বিক্রি করছেন এক শ্রেণির মৌসুমী বিক্রেতা। উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মাঝপাড়া এলাকার পতাকা বিক্রেতা রতন আলী জানালেন, তিনি সারাবছর নানা রকম পণ্য ফেরি করে বিক্রি করলেও ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে পতাকা কিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুরুদাসপুরের বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, তার দৈনিক ১৫শ’ থেকে ১৭শ’ টাকার পতাকা বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকার পতাকা তার কাছে পাওয়া যায়। ৪০০ টাকার পতাকা বেশ বড় আর ১০ টাকার পতাকা কাগজের হাতপতাকা।
লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা রতন আরো জানান, বিদেশি নাগরিকরা বেশি টাকা দিয়ে পতাকা কেনেন। আর এই মৌসুমি ব্যবসায় ভালোই লাভ। তিনি এক অন্যরকম তৃপ্তি পান বলে দুই মৌসুমে এই কাজ করেন। বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের সামনে পতকা বিক্রি করা ১৯ বছর বয়সী স্বপন জানান, আগে তিনি হোটেলে কাজ করতেন। ডিসেম্বরে বেশি লাভের আশায় এ ব্যবসায় নেমেছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্কুল কলেজের গেটের সামনে তিনি পতাকা বিক্রি করেন। এসব এলাকায় পতাকার দাম বেশি পাওয়া যায়। স্বপনের সাথে কথা বলার সময় ওই কলেজের শিক্ষার্থী আরেফিন শ্রাবণী দুটি পতাকা কিনলেন এবং তিনি জানালেন, একটি বিজয় দিবসের জন্য, অন্যটি বাসার ছাদে উড়ানোর জন্য। আমরাও চাই গোটা বাংলাদেশ বিজয়ের মাসে ছেঁয়ে যাক আমাদের গর্বিত পতাকায়। আর নিজেদের স্বপ্ন বুনুক পতাকার ফেরিওয়ালারা।