প্রধান সূচি

পাবনায় গভীর নলকূপের সেচচার্জ নির্ধারনে সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ পাবনা সদর উপজেলার চলতি মৌসুমে সেচচার্জ নির্ধারণে বুধবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কৃষক ও গভীর নলকূপের সমবায় মালিকদের এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মালিগাছা ইউনিয়নের ক্ষুদ্রমাটিয়াবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার গভীর নলকূপ সমবায় মালিকদের পক্ষ থেকে সভাপতি ও ম্যানেজারগণ উপস্থিত ছিলেন। ক্ষুদ্রমাটিয়াবাড়ির কৃষক সেলিম হোসেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সভায় প্রায় শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
সুত্র মতে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের সাথে কোনো রকম বৈঠক না করে ক্ষুদ্রমাটিয়াবাড়ি একটি গভীর নলকূপ চালু করা হয়। কিন্তু এতে এলাকার কৃষকদের সেচচার্জ নিয়ে মধ্যে নানা রকম মতভেদ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পাবনা -৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি কে জানানো হয়। তিনি দেশে ধানের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষকলীগের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দকে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করে গভীর নলকূপের সমবায় মালিক এবং কৃষকদের একটি সমন্বয় সভার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি পরামর্শ দেন। সে মোতাববেক পাবনা বিএডিসি সহকারি প্রকৌশলী রাকিব আল কাদিরের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত সভায় পাবনা জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান, পাবনা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান খান মামুন পাবনা পৌর সভা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক মো. বাদশা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় গভীর নলকূপ মালিক সমিতির ম্যনেজার শুভ, আরিফুজ্জামান নান্টু কৃষকদের পক্ষে আবেদনকারী মোঃ সেলিম সহ এলাকার কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভার সভাপতি বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী রাকিব আলী কাদির সহ উপস্থিত অতিথি নেতৃবৃন্দ সরাসরি কৃষক ও গভীর নলকূপ সমবায় মালিকদের সাথে মত বিনিময় করেন। এর পর সর্ব সম্মতি ক্রমে ড্রাইভার লাইনম্যনের বেতন, রাত্রিকালীন, পাহারাদারের বেতন, ক্যনেল মেরামত, বিদ্যুৎ বিল, সম্ভাব্য ঝুকি, মালিকদের লভ্যাংশ ইত্যাদি মিলিয়ে চলতি ইরি-বোরো, মৌসুমে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৮ শত টাকা এবং আমন মৌসুমে বিঘা প্রতি ১ হাজার ২ শত টাকা গভীর নলকূপের সেচচার্জ নির্ধারণ করা হয়। যদি সদিচ্ছায় কোনো কৃষক সেচচর্জের বিনিময়ে ধান দিতে চান তাহলে তাকে ইরি-বোরো মৌসুমে ১৬ ভাগের ৩ ভাগ এবং আমন মৌসুমে ১৬ ভাগের ২ ভাগ অংশের ধান সেচচার্জ হিসেবে দিতে হবে। এছাড়াও সেচচার্জের টাকা প্রদানের জন্য ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমে জমিতে চাষ দিতে গেলে কৃষকে ধার্য্যকৃত ৩ ভাগের ১ ভাগ সেচচার্জ হিসেবে নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হবে। এর পর ধান রোপনের সময় ১ ভাগের টাকা গভীর নলকূপ সমবায় মালিকের নিকট জমা দিতে হবে। অবশিষ্ট টাকা ধান কাটার পূর্বে পরিশোধ করতে হবে। যদি কোন কৃষক এই নিয়মে ব্যর্থ হয়, তাহলে গভীর নলকূপের সমবায় মালিকগণ যথারিতি সেচচার্জের বিনিময় জমি থেকে ধার্য্যকৃত অংশের ধান কেটে নিতে পারবেন। এরপর কৃষক এবং গভীর নলকূপ সমবায় মালিকদের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়।