প্রধান সূচি

ফোটার অপেক্ষায় বসন্তের ফুল ভাট

ইকবাল কবীর রনজু, চাটমোহর প্রতিনিধি
বসন্তের ফুল ভাট। অনেকে একে বন জুঁই বা ঘেটুও বলে থাকেন। অনাদর অবহেলায় ক্ষুদ্রাকৃতির গুল্ম জাতীয় এ গাছ বেড়ে ওঠে। ফাল্গুন মাসের শুরুর দিকে ফুল ফোটা শুরু হয় বলে ভাট কে বসন্তকালীন ফুল হিসেবে ধরা হলেও গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত ভাট গাছে ফুল দেখা যায়। এ বছর ভাট গাছ গুলোতে ফুল ধরলেও এষনও তা প্রস্ফুটিত হয়নি। ফোটার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে যেন। এ ফুলের মিষ্টি সৌরভ মৌমাছিসহ বিভিন্ন কীট পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। মৌমাছি ভাট ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ভাটের ফুল থেকে চেপটা ফল হয়।
ভাট ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Clerondendrom viscosum.. সবুজ বহুপত্রী, বহুবর্ষজীবি, সপুস্পক এ উদ্ভিদ গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত বুনো উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, মায়ানমার ও ভারতবর্ষ এ উদ্ভিদের আদি নিবাস। পাবনার চাটমোহর-হান্ডিয়াল সড়ক, চাটমোহরের রেলপথসহ বিভিন্ন রাস্তার পাশে, বসত বাড়ির আশে পাশে এবং ভিটা জাতীয় পতিত জমিতে ভাট গাছ দেখা যায়। ওষুধি এ গাছ ৩ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। খসখসে পাতা গুলো আকারে ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা হয়। কৃষিবিদ মোহাইমিনুল হালিম জানান, সোজা দন্ডায়মান ভাট গাছের শীর্ষে সাদা বেগুনী মিশ্র রঙের ফুল ফোটে।
জানা যায়, ভাট পাতার রস শিশুদের জ্বর দূর করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভাঁট ফুল দিয়ে ভাঁটি পুজার আয়োজন করে থাকেন। ক্যানসার, কৃমি, চুলকানি, উদারাময়সহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে এটি খুব বেশি স্বীকৃত নয়।
পথের পাশের ভাট ফুল পথের সৈন্দর্য বর্ধন করে। প্রকৃতি প্রেমীরা আকৃষ্ট হন ভাট ফুলের সৈন্দর্যে। কেবল প্রকৃতি প্রেমীরাই নয় অনেক কবি সাহিত্যিকও প্রাকৃতিক সৈন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে তাদের লেখায় ভাট ফুলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় লিখেছেন, ভাঁট আঁশ শ্যাওরার বন বাতাসে কী কথা কয় বুঝি নাকো, বুঝি নাকো চিল কেন কাঁদে; পৃথিবীর কোনো পথে দেখি নাই আমি, হায় এমন বিজন।