প্রধান সূচি

দোয়া কবুলের মূল্যবান সময়

দোয়া কবুলের জন্য মুমিন আল্লাহর দরবারে শরণাপন্ন। বিপদ-আপদ, ক্ষমা ও কিছু চাওয়া এবং ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মুমিনগণ দুই হাত তুলে ধরেন পালনকর্তার দরবারে। আল্লাহ অত্যধিক লজ্জাশীল, দয়াময় ও পরম করুণাময়। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে তখন তিনি তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ সুরা মুমিন, আয়াত, ৬০।

দোয়া কবুল হওয়ার আনন্দই আলাদা। চোখের পানি ফেলে তাওবা, তাসবিহ ও দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে মূল্যবান সময়ে দোয়া করলে মহান আল্লাহ কবুল করে নেবেন। এজন্যই চাই দোয়া কবুলের সময়কে কাজে লাগানো। দোয়া কবুলের মূল্যবান সময়ের মধ্যে অন্যতম একটি সময় হলো ফরজ নামাজের পর ও রাতের শেষ অংশে। তখন দোয়া করলে মহান আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন। যা আমরা মিশকাত শরিফের মাধ্যমে জানতে পারি। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিগ্যেস করা হলো, কোন সময়ের দোয়া বেশি গ্রহণযোগ্য? তিনি বললেন, ‘শেষ রাতের মধ্যের দোয়া এবং ফরজ নামাজের পরের দোয়া।’

ফরজ নামাজের পরসহ ফরজ নামাজের আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়কে দোয়া কবুলের জন্য খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তখন দোয়া করলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না।’ সুনানে আবু দাউদ।

দোয়া কবুলের জন্য মহান আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য সপ্তাহে একটি বিশেষ দিন উপহার দিয়েছেন। স্বীয় বান্দারা যেন তাদের দোয়া প্রভুর দরবারে কবুল করিয়ে নিতে পারে। তাহলো জুমার দিনের দোয়া। সহিহ বুখারি শরিফের গ্রন্থে পাওয়া যায়, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন সম্পর্কে অলোচনায় বললেন, ‘এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যেকোনো মুসলিম বান্দা যদি এ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করেন, তবে তিনি তাকে তা অবশ্যই দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।’ সুনানে আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় রয়েছে, ‘আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত।’ আবার সহিহ মুসলিম শরিফের বর্ণনায় পাওয়া যায়, ‘জুমার দিন দোয়া কবুলের চূড়ান্ত সময়, ইমামের মিম্বরে বসা হতে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’

এছাড়াও শবে কদর, রশবে বরাত, আরাফার মাঠে, সিজদায় লুটিয়ে, মুসাফির ও রোজা পালনরত অবস্থায় দোয়া কবুল হয়। অবশ্যই দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কিংবা দোয়া কবুল হচ্ছে না এমনটি মনে করা উচিত নয়। দোয়ার সময়ে স্মরণ রাখতে হবে, আল্লাহ আমার কথা শুনছেন, তিনি আমার দোয়া কবুল করবেন, ইনশাআল্লাহ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দার দোয়া সব সময় গ্রহণ করা হয়। যদি না সে দোয়া কোনো অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার কথা না থাকে এবং দোয়ায় তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞাসা করা হলো—হে রসুলুল্লাহ, তাড়াহুড়া করা কী? উত্তরে বললেন, সে বলতে থাকে আমি তো দোয়া করেছি, আমি তো দোয়া করেছি; কিন্তু আমি দেখতে পেলাম না যে, তিনি আমার দোয়া কবুল করেছেন। তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর দোয়া করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে।’ বুখারি ও মুসলিম।

প্রিয় পাঠক, আসুন মূল্যবান সময়ে দোয়া করি। কাকুতি-মিনতি করে চোখের পানি ফেলে হারাম বর্জন করে চাওয়ার মত আল্লাহর দরবারে চাই। হে আল্লাহ, আমাদের সকলের দোয়া কবুল করুন। আমিন।