প্রধান সূচি

সাবেক তথ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে অভিনব প্রতারণা, ব্লাকমেইল করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

পাবনা প্রতিনিধিঃ
সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নাম ভাঙ্গিয়ে এক প্রতারকের মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ গ্রামবাসী। এলাকার সম্ভ্রান্ত, নিরীহ কিছু লোকের বিরুদ্ধে রঞ্জু সিকদার নামক এক প্রতারক একটি মিথ্যা গণধর্ষণের মামলা দায়ের করলে এলাকাবাসী এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল মিছিল করে পবনা- কাজীরহাট সড়ক অবরোধ করে।
স্থানীয়রা জানায়,পাবনা জেলার আমিনপুর থানার আমিনপুর গ্রামে রঞ্জু সিকদার নামে এক ব্যক্তি অজ্ঞাত কারণে বাসা ভাড়া নিয়ে কথিত পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করে।সে নিজেকে সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মেয়ের জামাই বলে দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে উক্ত রঞ্জুর স্ত্রী ফাতেমা একসময় হাসানুল হক ইনুর গৃহ কর্মী হিসেবে কাজ করতো।সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে টাউট,প্রতারক রঞ্জু নানা ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।তার কোন নির্দিষ্ট পেশা নেই। কিছুদিন আগে সে তার কথিত মেয়েকে আমিনপুর আয়েনউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীতে ভর্তি করায়।এর পরপরই মেয়েকে ইভটিজিং এর অভিযোগ এনে এলাকার কিছু তরুনদের বিরুদ্ধে মামলা করে জেল হাজতে পাঠায়। এ ঘটনার পরপরই গত ১২ এপ্রিল উক্ত রঞ্জু সিকদার তার মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে এলাকার ৮ জন সম্ভ্রান্ত বয়স্ক , গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।এই অভিযোগ দায়েরের ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকাবাসী এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ও রঞ্জু সিকদারকে আইনের আওতায় আনার ূদাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করে পাবনা- কাজীরহাট সড়ক অবরোধ করে।
এছাড়াও রঞ্জু শিকদার আমিনপুরে তার ভাড়া বাড়ীর পাশে নারী শিশু নির্যাতন ও মাদক বিরোধী সংগঠন নামে একটি অফিস করেন। এবং সেই অফিসে টানানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর পাশে তাদের স্বামী -স্ত্রীর ছবি। এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে ও তার অফিসের ছবি দেখে বোঝা যায় রঞ্জু শিকদার এই অফিসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, নারী শিশু নির্যাতন ও মাদক বিরোধী সংগঠনের আড়ালে রঞ্জু শিকদার এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই অফিসের আড়ালে গড়ে তুলেছে একটি শক্তিসালী মাদক সিন্ডিগেট। এলাকাবাসী এই হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলার প্রতিকার ও রঞ্জু শিকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এ সময় বক্তব্য দিয়েছেন বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল হক বাবু তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রঞ্জু শিকদার ফোনে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যপারে আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মামলা নেয়া হবে। পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম বিপিএম ঘটনার পর বলেছিলেন, তদন্ত করে মামলা গ্রহন করা হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তদন্ত ছাড়াই পুলিশ স্পর্শকাতর রহস্যজনকভাবে মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গত কাল শনিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই পুলিশ থানায় মামলা রেকোর্ড করার কারণে এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।