প্রধান সূচি

মধ্যস্বত্ত্ব ভোগ করছে ৫ শ্রেণীর মানুষ

চাটমোহরের কাঁচা আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়

চাটমোহর, পাবনা ঃ

পাবনার চাটমোহরের আাম বাগানের মালিকরা নগদ টাকা হাতে পাবার আশায় অপরিপক্ক অনুন্নত জাতের আম বিক্রি করে দিচ্ছেন। ছোট আকারের অপরিণত আম গাছ থেকে পারায় উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

উপজেলার পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার কাঁচা আম পাঁচ শ্রেণীর মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীর হাত ঘুরে যাচ্ছে নাটোর ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানী ও বাজারে। পাঁচ শ্রেণীর মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী মধ্যসত্ত্ব ভোগ করায় ভোক্তাকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে কাঁচা আম। আচাঁর, জ্যাম, জেলী, সচ, টক তৈরীতে কাঁচা আম ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়।
ক্ষুদ্র আম ব্যবসায়ীরা গাছ চুক্তি (গাছের আম অনুমান করে) আম কিনে আড়তে কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন। এতে বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ক্ষুদ্র আম ব্যবসায়ীরা আম বিক্রি করছেন আড়তের মাধ্যমে। আড়তদারের নিকট থেকে অপর ব্যবসায়ী আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বড় আড়তদারের নিকট পাইকারী বিক্রি করেন। সেসব আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা আম কিনেন এবং ভোক্তাদের নিকট বিক্রি করেন। এভাবে আম চাষী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌছাতে চার থেকে পাঁচ শ্রেণীর মধ্যস্বত্ত ভোগীর হাত বদল হয়। ফলে ভোক্তাকে বেশি দামে আম কিনতে হলেও আম চাষী আমের দাম কম পান।
চাটমোহরের হরিপুরের সিয়াম ফল ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী তোফাজ্জ্বল হোসেন তফেজ উদ্দিন জানান, হরিপুর বাজারের বিভিন্ন আড়তে কাঁচা আম বিক্রি হয়। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত অবধি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে। চাটমোহরের ১১ ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আটঘরিয়া ও বড়াইগ্রাম উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলো থেকে হরিপুরের আড়তে আম আসে। এ এলাকার পার্শ্বডাঙ্গা, বনগ্রাম, সুইগ্রাম, হাদল, বাওইকোলা, জোনাইল, গারফা, চান্দাইসহ পাবনার কাজীরহাটে বেশী আম উৎপাদন হয়। বর্তমান ফরিয়াদের নিকট থেকে আমরা ৫শ থেকে ৭শ টাকা মন দরে কাঁচা আম কিনছি। প্রাণ কোম্পানীসহ ঢাকা, চট্রগামের আড়তে আম পাঠাচ্ছি। এপ্রিল মাসের মাঝা মাঝি থেকে এখানকার আড়তগুলোতে কাঁচা আম বিক্রি শুরু হয়। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বেচা কেনা হয়। কিছু দিন পর থেকে এসব আড়তে কাঁচা আমের পাশাপাশি জুসের উপকরণ হিসেবে পাকা আমও বিক্রি হবে। এ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর অন্তত দুই হাজার মানুষ আম ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে জড়িত। লক ডাউনের প্রভাবে এবার ব্যবসায় লোকসান যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী হযরত আলী জানান, হরিপুরের আড়তে বর্তমান আকার ভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা আমের দাম কম হওয়ায় কৃষকের লোকসান হচ্ছে। কোম্পানীগুলো ইচ্ছে মতো দাম কমানোয় আমাদেরও লোকসান হচ্ছে। খুচরা কাঁচা আম বিক্রেতারা জানান, চাটমোহরের হাট বাজারে কাঁচা আম ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, চাটমোহরে প্রায় ২শ ১২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। অনেক সময় আমে পোকার আক্রমন হয়, পচে নষ্ট হয়, ঝড়-শিলাবৃষ্টিতেও আমের ক্ষতিসাধন হয়। জৈষ্ঠ মাসে যখন উন্নত জাতের আম পাকে তখন টক গুটি আমের চাহিদা ও দাম দুটোই কমে যায়। তাই নগদ টাকার আশায় বাগান মালিকরা অনুন্নত জাতের গুটি টক আম বিক্রি করছেন। ছোট আকারের আম গাছ থেকে পারায় সামগ্রীক উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। তবে কাঁচা আমের দাম বাড়লে বাগান মালিকরা লাভবান হবেন।