প্রধান সূচি

চাটমোহরে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, বেড়েছে আবাদ

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর, পাবনা ঃ
পাবনার চাটমোহরে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। উপজেলায় সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের আবাদ বেড়েছে। এক সময়ের বিশ^ব্যাপী সমাদৃত সোনালী আঁশ পাটের গৌরবময় অতীত হারিয়ে গেলেও নতুন করে আবার পাটের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় পাট চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন পাট চাষিরা। ফলে ব্যাপক হারে এবছরেও পাট চাষ করেছেন তাঁরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। সবুজ পাতার সাথে দোল খাচ্ছে মাঠের পর মাঠ কৃষকের সোনালী আঁশ পাট।

গত বছরের চেয়ে এবার ৬২০ হেক্টর জমিতে বেশী আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

গত বছর আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৮ হাজার ১ শত হেক্টর জমিতে। পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পাট চাষে ঝুঁকেছে কৃষক। গত দুই বছর যাবত পাটের দাম পাওয়ায় কৃষক পাট চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। অনেক কৃষকই বলছেন পাট চাষীদের সুদিন ফিরেছে।

চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে দেশী ১৩৫ হেক্টর, তোষা ৮ হাজার ৪৪৫ হেক্টর এবং মেস্তা জাতীয় পাট আবাদ হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার আড়িংগাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, চলতি মৌসুমে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় এখনো কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কৃষক আঃ ছাত্তার জানালেন,এক বিঘা জমিতে পাট চাষে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। পাট উৎপাদন হয় প্রায় ৮ মন। যার বাজারদর সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। এছাড়া বিঘা প্রতি প্রায় ২ হাজার টাকার পাটকাঠি পাওয়া যায়। গত বছর ভরা মৌসুমে প্রতি মণ পাট ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও ক্রমশই পাটের দাম বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ৬ হাজার টাকা মণ পাট বিক্রি হয়েছে। ফলে যারা পাট ভরা মৌসুমে বিক্রি না করে রেখে দিয়েছিলেন তারা বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভোবান হয়েছেন।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, সত্যিই পাট চাষীদের সুদিন ফিরেছে। পাট চাষ করে কৃষক এখন অনেক লাভবান হচ্ছেন। আগামি দিনে খুব বেশি খড়া না হলে, আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকলে কৃষক পাটের ভাল ফলন পাবেন।