প্রধান সূচি

সাঁথিয়ায় ১৩ দিনেও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় বাদী ও তার পরিবার

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
পাবনার চরমপন্থী অধ্যাসিত সাঁথিয়া উপজেলাধীন আতাইকুলা থানার স্বরগ্রামে নৃসংশিত হত্যার ১৩ দিন পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। ভীত শঙ্কিত বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আহত অপর জন। দীর্ঘ দিন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে নানা গুঞ্জন বইছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের স্বরগ্রামের আকমলের বাড়ীতে সাংবাদিকরা গেলে সাথে সাথে রুহুলের মা রোকেয়া খাতুন (৫০) কান্নায় মুর্ছা যাচ্ছেন আর বিলাপ করে বলছেন আমার সোনার রুহুল এসেছে। তাকে এনে দাও, রুহুলের স্ত্রী দেলোয়ারা খাতুন ও তার ৭ বছরের একমাত্র শিশু পুত্র শকিবুল হাসান সাংবাদিকদের দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। এ সময় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে যায। প্রতিবেশী নর নারীর চোখে পানি আসে। রুহুল ওই গ্রামের আকমলের ছেলে। পেশায় দিন মজুর।
গত ২৯ মে বিকালে রুহুল তার স্ত্রী দেলোয়ারাকে দাওয়াত খেতে যাবে বলে বের হন। এটাই ছিল ন্ত্রীর সাথে শেষ কথা। ওই দিন রাত নয়টার দিকে রুহুল ও তার চাচা আবু সাইদ বাড়ীর পাশে চায়ের দোকানে চা খেয়ে আসার সময় দু®কৃতকারীরা রুহুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপাতে থাকে। আবু সাইদ এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। মুমুর্ষ অবস্থায় তাদের পাবনা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রুহুলকে মৃত ঘোষনা করে। আবু সাইদকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ ঘটনায় রুহুলের পিতা আকমল হোসেন বাদী হয়ে শাজাহানসহ ১১ জনকে আসামী করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করে। যার নং ১৯ তাং ৩১/০৫/২০২২। ১৩ দিন গত হলেও চাঞ্চাল্যকর এ হত্যাকান্ডের মামলার আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন উঠছে। রুহুলের চাচা জাহান আলী, সাইদের স্ত্রী রুবি, গ্রামবাসী ফরহাদসহ আরো অনেকে অভিযোগে বলেন, স্বরভবানীপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ প্রামানিকের ছেলে শাজাহান আলীর হুকুমে তাদের উপর হামলা করা হয়। স্বরগ্রাম দাখিল মাদ্রাসার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শাজাহান তার পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটায় বলে তারা জানায়।
আহত আবু সাইদ বলেন, এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুেেড় বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের গ্র্রেপ্তার না করায় তিনি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেন মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরো বলেন, প্রভাবশালী শাজাহান এলাকায় সন্ত্রাসীদের লালন করে। সে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপাত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। স্বরগ্রাম মাদ্রাসায় সভাপতি পদে প্রার্থী হলে সে আমাকে হত্যা করতে সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে দেয়। তিনি আসামীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।
দেলায়ারা কি পাবে না স্বামী হত্যার বিচার? শিশু সাকিবুল হাসান জানাতে পারবে না তার পিতার হত্যাকারীদের বিচারের চুরান্ত শাস্তি। রুহুলের পিতা আকমল সাংবাদিকদের দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরে বলেন, আমি কি পাব না ছেলে হত্যার বিচার, আজ ১৩ দিন পার হলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করছে না আইন শৃংখলা বাহিনী। তিনি ক্ষোভে বলেন দেশে কোন শক্তি নাই যে শাজাহানের বিচার করে। সে আধিপত্য দেখাতে এলাকায় নানা অপকর্ম করছে।
হত্যাকান্ডের মাত্র ৯ দিনে মামলা সিআইডি তে যাওয়ায় ও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতাইকুলা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা গুঞ্জন উঠেছে।
শাজাহানের মোবাইল নাম্বারে বার বার চেষ্টা করে পাওয়া যায় নি।
এ ব্যাপারে আতাইকুলা থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।