প্রধান সূচি

পদ্মা সেতু এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

‘এই সেতু হবে না, হলেও টিকবে না’- ছিল এমন নানা মন্তব্য, মাথা কাটার মতো নানা গুজবও ছড়ানো হয়েছিল। সব গুজব, রটনা ও চ্যালেঞ্জকে পেরিয়েই পদ্মার উপর নির্মিত হয়েছে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আর মাত্র এক দিন পর আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে রয়েছে জমকালো আয়োজন। পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দাসহ সব ধরনের বাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সেতু এলাকায় বসানো হচ্ছে র‌্যাবের ওয়াচ টাওয়ার। থাকবে ফুট পেট্রোল, মোটরসাইকেল পেট্রোল, বোম স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড। স্পেশাল ফোর্স নিয়ে রেডি থাকবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো নাশকতা, হামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা নেই।

র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল পদ্মাসেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে জনসভাস্থলসহ পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। আকাশে হেলিকপ্টার, সেতুর দুই প্রান্তে স্পেশাল কমান্ডো টিমসহ উদ্বোধনস্থল এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে থাকবে র‌্যাবের কড়া পাহারা।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সব ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য তৎপর আছেন। পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া ১ এবং সার্ভিস এরিয়া ২-এ র‌্যাবের পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশস্হল, টোল প্লাজা, ফলক উন্মোচন স্থানসহ আশপাশে র‌্যাবের টহল তৎপরতা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোটরসাইকেল পেট্রোল, বোট পেট্রোল, অবজারভেশন ফোর্স থাকবে সার্বক্ষণিক। সেতুর দুই প্রান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট থাকছে। আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সেতুর দুই প্রান্তে র‌্যাবের মেডিক্যাল টিম থাকবে বলে জানান তিনি। এ সময় র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসভাকে কেন্দ্র করে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। পাশাপাশি খোলা হবে পুলিশের কন্ট্রোল রুম। মঙ্গলবার পদ্মা সেতুর দুই দিকে দুইটি থানার উদ্বোধন করা হয়েছে। আর জাজিরা প্রান্তে শেখ রাসেল সেনানিবাস উদ্বোধন করা হয়েছে এক বছর আগেই। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে পদ্মা সেতু রক্ষায় সেখানে এক ব্রিগেড সেনা সদস্য রয়েছেন। উদ্বোধনের দিন র‌্যাবের হেলিকপ্টার নিয়ে কাজ করবে স্পেশাল ফোর্স। গত সপ্তাহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সর্বশেষ সভায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় যে আশঙ্কাগুলো করা হয় তার মধ্যে গুজব ও অসন্তোষ ছড়িয়ে নাশকতা হতে পারে উল্লেখ করা হয়। এই আশঙ্কায় বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ছাড়াও নানা সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। আর এজন্য শুধু পদ্মা সেতু এলাকা নয়, সারাদেশেই সতর্কতা জারি করা হয়। নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়ক, নৌ বা আকাশ সব দিকই বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার প্রবেশ পথ, মেস, আবাসিক হোটেল, জনসমাগমস্হল, নির্জন স্থান সবখানেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য তৎপরতা রয়েছে।