প্রধান সূচি

যে ব্যায়াম বলে দিবে কতদিন বাঁচবেন

শরীরের ভারসাম্য কতটা সামলাতে পারছেন, তার ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্য। এর আগেও দেখা গিয়েছে, শরীরে ব্যালান্স হারিয়ে ফেলার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির একটি যোগসূত্র রয়েছে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা ঠিক মতো শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেন না, তাদের মস্তিষ্কেরও তাড়াতাড়ি ক্ষতি হয়। তাই ডিমেনশিয়ার পূর্ব লক্ষণ হিসাবে শরীরের ব্যালান্স কেমন, তাও অনুমান করা হয়।

ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, আমেরিকা ও ফিনল্যান্ডের গবেষকদের এক আন্তর্জাতিক দল একটি গবেষণা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল শরীরের ভারসাম্যের সঙ্গে আয়ুর যোগসূত্র বের করা। তবে এ গবেষণার ফল মূলত পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে তৈরি। কোনো বিজ্ঞানসম্মত কারণ এখনও পাওয়া না গেলেও গবেষণার ফল যথেষ্ট চাঞ্চল্যকর! এ গবেষণাতেই দেখা গিয়েছে যারা ১০ সেকেন্ডও এক পায়ে দাঁড়াতে পারছেন না, তাদের প্রত্যেকেরই তার পরবর্তী ১০ বছরে মৃত্যু হচ্ছে। ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন’ পত্রিকায় এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পায়।

গবেষণা দলের প্রধান, চিকিৎসক ক্লদিয়ো গিল আরাউজো এই গবেষণার ভিত্তিতে জানিয়েছেন, বয়স্কদের স্বাস্থ্যপরীক্ষায় একটি ভারসাম্যের পরীক্ষা যোগ করাটা আবশ্যক। সাধারণত এই ধরনের পরীক্ষা করে দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। মূলত কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষা এতদিন না থাকায় ব্যালান্স নিয়ে সেভাবে কেউ মাথা ঘামাননি। কিন্তু ক্লডিয়োর মতে, ষাটোর্ধ্বদের জন্য এই ধরনের পরীক্ষা করানোটা খুব দরকার।

২০০৮ থেকে ২০২০ সাল, অর্থাৎ ১২ বছর ধরে ১৭০২ জনের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। তাদের প্রত্যেকেরই বয়স ৫১ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে ছিল। এবং আপাতভাবে তারা প্রত্যেকেই সুস্থ ছিলেন। কোনো বাড়তি সাহায্য ছাড়া তাদের সবাইকে ১০ সেকেন্ডের জন্য এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। হাত দুই পাশে রেখে দৃষ্টি সামনের দিকে স্থির করে দাঁড়াতে বলা হয়। দুই পায়েই তিনবার করে চেষ্টা করার সুযোগ ছিল। তাদের মধ্যে ২১ শতাংশ এই পরীক্ষা পাশ করতে পারেননি। এবং তার ১০ বছরের মধ্যে ১২৩ জন কোনো না কোনো কারণে মারা যান।

কিন্তু গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণার কিছু সমস্যাও ছিল। যেমন যাদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল তারা প্রত্যেকেই ছিলেন ব্রাজিলের শ্বেতাঙ্গ। তাই বৃহত্তর ক্ষেত্রে একই রকম ফলাফল একই রকম হবে কিনা, তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।