প্রধান সূচি

যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাবি

যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নাদিম জাহাবি। মঙ্গলবার (৫ জুলাই) তার পূর্বসূরি ঋষি সুনাক পদত্যাগ করায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নাদিম জাহাবিকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

৫৫ বছর বয়সী নাদিম জাহাবি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির এক সংকটপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। বিগত প্রায় তিন দশকের মধ্যে ব্রিটেন বর্তমানে বেশ বড় ধরনের মূল্যস্ফীতিতে ভুগছে। সামনের দিনগুলোতে তার জন্য দেশটির সাধারণ জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নাগালে রাখতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

এর আগে নাদিম জাহাবি ব্রিটেনের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা মান বজায় রেখে বরিস জনসনের সরকার পরিচালনার সক্ষমতার দিকেই ইঙ্গিত করেন।

কোভিড লকডাউনে আইন ভেঙে পার্টি করার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে না পেতেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ বরিস জনসন ও তার সরকারের জন্য বেশ বড় ধরনের হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে।

সাজিদ জাভেদ বলেছেন, তিনি তার বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে ইস্তফা দিলেন। পদত্যাগপত্রে সাজিদ বলেছেন, দেশ এখন শক্তিশালী ও নীতিনিষ্ঠ রক্ষণশীল দল চায়। আর যে কোনো ব্যক্তির থেকে দল বড়। আমি বন্ধু হিসাবে আপনার প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছি। কিন্তু আমরা সকলেই আগে দেশের সেবা করি।

সাজিদ জানিয়েছেন, মানুষ মনে করে, রক্ষণশীল দল কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। আর তারা মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে সেই সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা সবসময় জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিই না। কিন্তু দেশের স্বার্থে কাজ করি। কিন্তু খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ আমাদের সম্পর্কে এটা ভাবছেন না।

তিনি আরও বলেছেন, গত মাসের আস্থা প্রস্তাব দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের অনেক সহকর্মীও একই মতে বিশ্বাসী। এখন নতুন দিশা দরকার, যেটা আপনার নেতৃত্বে হবে না। তাই আমি আপনার প্রতি আস্থা হারিয়েছি।

ঋষি সুনক তার পদত্যাগপত্রে বলেছেন, মানুষ আশা করে সরকার ঠিক আচরণ করবে, দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে এবং মন দিয়ে কাজ করবে। সম্ভবত এটাই আমার শেষ মন্ত্রিপদে থাকা, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই মাপদণ্ডের জন্য লড়াই করা উচিত। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।

ঋষি বলেছেন, ব্যক্তিগত স্তরে অনেক বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমার মতভেদ হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে আমি আপনার মতকেই সমর্থন করেছি। যৌথ দায়িত্বের সরকার এভাবেই চলে। এটাই আমাদের ব্যবস্থা। আর কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা দুজনেই কম কর বসিয়ে বেশি আর্থিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চেয়েছি। বিশ্বমানের পরিষেবা দিতে চেয়েছি। কিন্তু এটা তখনই দেয়া সম্ভব, যখন আমরা এই লক্ষ্যে প্রচুর পরিশ্রম করতে, আত্মত্যাগ করতে এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত থাকি।

ঋষি জানিয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি, মানুষ সত্য জানতে চায়। তাদের জানা উচিত ভবিষ্যতের কোন পথটা ভালো। আগামী সপ্তাহে আমাদের যৌথ ভাষণের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি বুঝতে পারছি, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে আলাদা। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, এভাবে আমি আর কাজ চালিয়ে যেতে পারব না।

এদিকে সাজিদ জাভেদকে জনসন বলেছেন, করোনাকালে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। ৫০ হাজার নার্স নিয়োগ করেছেন, ৪০টি নতুন হাসপাতাল করেছেন, ব্যবস্থার সংস্কার করেছেন। সরকার সেই কাজ আগে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জনসন জানিয়েছেন, তিনি সাজিদের অভাব অনুভব করবেন।

ঋষিকে জনসন বলেছেন, আপনি অর্থমন্ত্রী হওয়ার পরপরই লকডাউন ঘোষণা করতে হয়। তখন অর্থনীতিকে বাঁচাতে আপনি অসাধারণ কাজ করেছেন। আপনি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন। করোনাকালে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাহায্য করেছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এর পাশাপাশি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও আপনি পিছপা হননি। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য কর ছাড়ও দিচ্ছি। আমি আপনার পরামর্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। আপনার অভাব আমি অনুভব করব।