প্রধান সূচি

‘বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যুদ্ধের প্রভাব বেশি বহন করছে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি ধকল সইতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার (২৭ জুলাই) ডি-৮ মন্ত্রীদের ২০তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশিরভাগ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সাহসিকতার সঙ্গে এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির প্রভাবে সারা বিশ্ব যখন গভীর সংকটে তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে নতুন বিপদের দিকে ঢেলে দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় সারা বিশ্বে সৃষ্ট মানবিক সংকট সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের সবাইকে এগিয়ে আসবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় সারা বিশ্বে খাদ্য, সার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের সবার উচিত সাহসের সাথে এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি সংঘাত, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্ব কঠিন সময় অতিক্রম করছে।
তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন ‘কাজেই, শক্তিশালী বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক সংহতি এই লক্ষে আগের চেয়ে আরও বেশি মনোযোগের দাবি রাখে।’

তিনি একটি পাঁচ-দফা প্রস্তাবও রেখেছেন যাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) প্রয়োগ করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং পরবর্তী দশকে ১২৯ বিলিয়ন ডলার থেকে আন্ত:-ডি-৮ বাণিজ্য দ্বিগুণ করার সুযোগ রয়েছে।

ঢাকায় অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক জোট ডি-৮ এর ২৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এবং ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২০ তম অধিবেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই, আসুন আমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একত্রে কাজ করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ডি-৮ এখন সমন্বয় তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আমাদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অপার সম্ভাবনা যদি সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায় তাহলে একটি অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং তুরস্কের মত অন্তর্ভুক্ত ডি-৮ দেশগুলো অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করছে শুনে তিনি আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, এটি আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে। বাধাগুলিকে উদারীকরণ করবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে উদ্দীপিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনের ফাঁকে দ্বিতীয় ডি-৮ সিসিআই সাধারণ অধিবেশনে এবং বিজনেস এক্সপোতে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের চেম্বারের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাসস