প্রধান সূচি

এখনো ডিজেলে সরকারের ভর্তুকি ৮ টাকা

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভিতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৪ টাকা/ লিটার, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্টোল ১৩০ টাকা হয়েছে।

এই নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দাম বাড়ানোর পরও জ্বালানিতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে বিশ্ব বাজারে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ছিলো ১৭০ মার্কিন ডলার। সেই সময় জ্বালানি মূল্য সমন্বয় করলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম হতো ১৬০ টাকা।বর্তমানে সেই মূল্য কমে ১৩৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। আমরা এখন সমন্বয় করেছি, যেন ১৬০ টাকা না হয়। এখনো বিপিসি’র ডিজেল আমদানির খরচ ১২২ টাকা লিটার। আর সেটা আমরা ১১৪ টাকায় বিক্রি করছি। এখনো লসেই জ্বালানি বিক্রি করছি আমরা।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, বিপিসি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তাদের মুনাফা ব্যবহার করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে বিপিসির আট হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এই ক্ষতিপূরণ তারা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করেছে। এখন অনেকেই প্রশ্ন করছেন এই অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তিনি কেন মুনাফা রাখছিলেন না।

মুনাফা থেকে পাওয়া টাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম জ্বালানি পাইপলাইন স্থাপনে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই লাইন দিয়ে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে জ্বালানি আনা হয়। তাদের আরেকটি তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা আছে ও আমরা প্রকল্পের পরামর্শে ব্যয় করছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করছে যাতে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়। কিন্তু তেলের দাম বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করে।

জ্বালানি তেল আমদানিতে সর্বশেষ জুলাই’ ২২ মাসের গড় প্লাটস রেট অনুযায়ী বিপিসি’র দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ডিজেলে প্রায় ৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টাকা ও অকটেনে প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ২১৬ টাকা, যা মোট প্রায় ৭৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৯১৬ টাকা।

এর আগে গত মে ও জুন মাসে লোকসান ছিল প্রায় শতাধিক কোটি টাকা। এভাবে গত ফেব্রুয়ারি-জুলাই মাস ২০২২ পর্যন্ত বিপিসি’র প্রকৃত লোকসান/ভর্তুকি দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার ওপরে।

সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ডিজেলের মূল্য ১১৪ টাকা করা হলেও জুলাই মাসের গড় হিসেবে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে ১২২ টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে এরপরেও ৮.১৩ টাকা লোকসান বিপিসিকে বহন করতে হবে।